জনতার দরবারে উপচে পড়া ভিড়! দ্বিতীয় সপ্তাহে ১০৩ জনের সমস্যার কথা শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার লক্ষ্যে শুরু হওয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচির দ্বিতীয় সপ্তাহে অভাবনীয় সাড়া মিলল। সোমবার সল্টলেকে বিজেপির সদর দপ্তরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ১০৩ জন সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে চিত্র:
এদিন সকাল থেকেই সল্টলেক বিজেপি অফিসে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গত সপ্তাহের ৪০ জনের তুলনায় এই সপ্তাহে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৭০টি টোকেন ইস্যু করা হয়, তবে দলবদ্ধ হয়ে আসা আবেদনকারীদের মিলিয়ে মোট ১০৩ জন এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। কর্মসূচিতে চাকরিহারা স্কুল শিক্ষকদের প্রায় ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে শহর ও জেলার সাধারণ মানুষ—সবাইকেই তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে হাজির হতে দেখা যায়।

জমি মাফিয়াদের জুলুম: বিচার চাইলেন অশীতিপর বৃদ্ধ:
জনতার দরবারের দ্বিতীয় দিনে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে নিয়ে আসেন ভবানীপুরের বাসিন্দা আশি ঊর্ধ্ব এক বৃদ্ধ, প্রবীর মুখোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভবানীপুরের পৈতৃক ভিটেতে প্রোমোটিং করতে গিয়ে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী ‘জয় কামদার’ এবং ‘সোনা পাপ্পু’ নামের ব্যক্তিদের তোলাবাজি ও দাদাগিরির শিকার হয়েছেন। বৃদ্ধের কথায়, এই জমি মাফিয়াদের অত্যাচারে তিনি কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। নিজের শেষ সম্বলটুকু ফিরে পেতে ও জমি মাফিয়াদের হাত থেকে বাঁচতে শেষ ভরসা হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন।

তৎপর প্রশাসন:
প্রতি সোমবার এই ‘জনতার দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই উপস্থিত থাকবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন। মানুষের অভাব-অভিযোগ দ্রুত ও ‘অন স্পট’ সমাধানের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এদিন মানুষের দুর্দশার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি জনসংযোগের কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতা বা প্রভাবশালী মহলের দাপটে সুবিচার পাননি। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রবীরবাবুর মতো মানুষেরা কতটা দ্রুত তাদের সমস্যার সমাধান পান।