‘আপনার সরকারকে বলুন’ পরিষেবা চালু, ১৫ জুন থেকে রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

মঙ্গলবার কল্যাণীতে তিন জেলা—উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং হুগলির প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শাসকদলের বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।

জনকল্যাণ শিবির ও প্রকল্পের সুবিধা:
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য জুড়ে সরকারি প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দিতে ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে। ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারের যে সমস্ত প্রকল্প এতদিন নানা কারণে আটকে ছিল, সেই সুবিধাগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই শিবিরের মূল লক্ষ্য।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সংক্রান্ত আপডেট:
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান:

বুধবার বিকেল থেকেই নবান্ন থেকে এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম প্রকাশ করা হবে।

যত দ্রুত উপভোক্তারা ফর্ম পূরণ করবেন, তত দ্রুত সুবিধা পাওয়া শুরু হবে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা না পাওয়া পর্যন্ত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা চালু থাকবে।

একইভাবে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এ রূপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। ফর্মটি অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাবে।

প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত:

আয়ুষ দফতরের পৃথকীকরণ: স্বাস্থ্য দফতর থেকে ‘আয়ুষ’ (AYUSH) দফতরকে আলাদা করে একজন নির্দিষ্ট অফিসারের অধীনে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

যোগ দিবস: আসন্ন যোগ দিবসকে উৎসবের মতো করে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ছবি তোলার জন্য নয়, প্রোটোকল মেনে আয়ুষ দফতরের নিয়ম অনুযায়ী যোগা পালন করতে হবে।”

‘আপনার সরকারকে বলুন’: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে বর্তমানের ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলো’ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তার বদলে নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই নামটি প্রস্তাব করেছেন শমীক ভট্টাচার্য, যা তিনি গ্রহণ করেছেন।

প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রেখে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।