ব্যাঙ্কের লকারে রাখা ৮.৭ কোটি টাকা উধাও! যেভাবে ফাঁদ পেতেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মী

‘যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়’—কথাটি যেন আক্ষরিক অর্থেই সত্য হলো ব্যাঙ্ক অব বরোদার আহমেদাবাদ শাখায়। ব্যাঙ্কের টাকা সুরক্ষিত রাখতে সাধারণ মানুষ যেখানে ভরসা করেন সেই ব্যাঙ্কেরই এক কর্মীর বিরুদ্ধে উঠল ৮.৭ কোটি টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্ট থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা গায়েব করার ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
চুরির মাস্টারপ্ল্যান: লোহার বাক্সের আড়ালে দুর্নীতি
অভিযুক্ত ব্যাঙ্ক কর্মীর নাম হরসিদ্ধ কাদিয়ার, যিনি ব্যাঙ্কের জুনিয়র কাস্টোডিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ জানুয়ারি তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। তিনি দাবি করেন, ব্যাঙ্কের পুরনো লোহার বাক্সগুলো ফেলে দেওয়া হবে। সেই উছিলায় দুইজন শ্রমিককে ব্যাঙ্কে আনেন এবং তাদের মাধ্যমেই ৮.৭ কোটি টাকা কারেন্সি চেস্ট থেকে বের করে নেন।
সিসিটিভি নিয়ে অদ্ভুত বিশ্বাস
অভিযুক্তের ধারণা ছিল, সিসিটিভি ফুটেজ ৯০ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট হয়ে যাবে। সেই কারণে গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ব্যাঙ্কে ডিউটি করেছেন। ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেই তিনি ‘সিক লিভ’ নিয়ে গা ঢাকা দেন। তবে তার হিসাব মেলেনি। সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রুটিন ভেরিফিকেশনের সময় নতুন ইন-চার্জ দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে এবং গত ১৫ মে এফআইআর দায়ের করা হয়।
টাকা কোথায় খরচ করলেন?
পুলিশ তদন্তে নেমে কাদিয়ারকে গ্রেফতার করে। ধৃতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী:
সম্পত্তি: চুরি করা টাকা দিয়ে আহমেদাবাদে নিজের জন্য একটি বাড়ি ও একটি বাণিজ্যিক গাড়ি কেনেন। এছাড়া একটি দোকানও কিনেছেন তিনি।
উপহার: এক মহিলা সহকর্মীকেও তিনি ২৩ লক্ষ টাকা দেন একটি বাড়ি কেনার জন্য এবং অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা নগদ উপহার দেন।
বিনিয়োগ: চুরির টাকার একটি বড় অংশ তিনি শেয়ার বাজার ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
উদ্ধার: অভিযুক্তের গাড়ি থেকে পুলিশ নগদ ২.২ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে।
সম্পাদকের মন্তব্য: একটি সরকারি ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এই ঘটনা বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে দিল। সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে নিয়মিত হাজিরা দেওয়া অভিযুক্তের ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ।