অভিষেকের বাড়িতে নোটিসের পরেই বড় ধামাকা! কলকাতা পুরসভার বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেন তৃণমূলের দেবলীনা!

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’ সহ একাধিক সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার (KMC) নোটিস এবং বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার ডেডলাইন ঘিরে এমনিতেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঠিক এই চরম উত্তেজনার আবহেই এবার কলকাতা পুরসভার অন্দরে ঘটল এক বড়সড় বিস্ফোরণ। বোরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস (Debolina Biswas)।
পদ ছাড়লেন দেবলীনা, নেপথ্যে কি অভিষেকের সম্পত্তির নোটিস?
কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদে আসীন ছিলেন। সূত্রের খবর, রাজনৈতিক ও দলগত কারণ দেখিয়েই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে তৃণমূলের অন্দরে এই নিয়ে তীব্র জল্পনা ও অন্য ব্যাখ্যা ঘুরপাক খাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে সমস্ত সম্পত্তিতে পুরসভা নোটিস পাঠিয়েছে, তার বেশ কয়েকটি দেবলীনার এই ৯ নম্বর বরো এলাকার মধ্যেই পড়ে। ফলে গত কয়েকদিন ধরে এই নোটিস ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত জট নিয়ে দলের অন্দর থেকে তাঁর ওপর কোনও অদৃশ্য চাপ তৈরি হচ্ছিল কি না—তা নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ফিরহাদও জানতেন না নোটিসের কথা! ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
এই পুরো বিতর্কের মাঝে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, কলকাতা পুরসভা তৃণমূল পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও এবং মেয়র পদে খোদ ফিরহাদ হাকিম থাকা সত্ত্বেও, অভিষেককে নোটিস পাঠানোর বিষয়ে মেয়র নাকি প্রথমে কিছুই জানতেন না! উল্লেখ্য, পদত্যাগী দেবলীনা বিশ্বাসকে পুরমহলে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই সকলে চেনেন। মেয়রের অজান্তে এই নোটিস এবং তারপরই ফিরহাদ-ঘনিষ্ঠ বোরো চেয়ারম্যানের পদত্যাগ—পুরসভার অন্দরে এক গভীর ফাটলের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
পদ ছাড়লেও কাউন্সিলর থাকছেন দেবলীনা, পাঠালেন চিঠি
জানা গিয়েছে, দেবলীনা বিশ্বাস নিজের হাতে লেখা ইস্তফাপত্রটি পুরসভার মেয়র পারিষদ মালা রায়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তবে চিঠিটি দেওয়ার সময় মালা রায় অফিসে উপস্থিত না থাকায় সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও গৃহীত হয়নি।
“সম্পূর্ণ দলগত কারণেই আমার এই সিদ্ধান্ত। এতদিন ওই চেয়ারে বসে দায়বদ্ধতার সাথে কাজ করেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।”
— দেবলীনা বিশ্বাস (কাউন্সিলর, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড)
তবে পদত্যাগের জল্পনা উস্কে দিলেও দেবলীনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “বোরো চেয়ারপার্সনের পদ ছাড়তে চাইলেও, আমি কাউন্সিলর পদ থেকে সরছি না। কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের কাজ করে যাব।”
কলকাতার রাজনীতিতে নতুন মোড়
ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের পর এমনিতেই ব্যাকফুটে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। তার ওপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতন বাড়ি ভাঙা পড়বে কি না, তা নিয়ে যখন কোটি টাকার বাজি চলছে দালাল স্ট্রিটে, ঠিক তখনই দেবলীনা বিশ্বাসের এই পদত্যাগ নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি দলের ভেতরের কোনও বড় গৃহযুদ্ধের ফল—তা নিয়েই এখন তোলপাড় কলকাতার রাজনৈতিক মহল।