হাসপাতালের বাইরেই চরম মেজাজ হারালেন সলমন! মাঝরাতে ইনস্টাগ্রামে বিস্ফোরণ, দরকারে ফের জেলে যাওয়ার হুমকি ভাইজানের!

সলমন খান (Salman Khan) এবং পাপারাৎজিদের (Paparazzi) সম্পর্ক বলিউডে বরাবরই বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দেওয়া কিংবা আলোকচিত্রীদের সঙ্গে হেসে কথা বলা—ভাইজানকে সাধারণত এই চেনা রূপেই দেখতে অভ্যস্ত সকলে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালের বাইরে যা ঘটল, তা এককথায় নজিরবিহীন। পরিবারের এক অসুস্থ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন অভিনেতা। সেখানে তাঁর বেরোনোর অপেক্ষায় থাকা পাপারাৎজিদের অতিরিক্ত ভিড় এবং হুড়োহুড়ি দেখে নিজের মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি তিনি। প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “দিমাগ খারাপ হ্যায় কেয়া?” তবে আসল ধামাকাটি কিন্তু হাসপাতালের বাইরে শেষ হয়নি, তা শুরু হয় মাঝরাতে খোদ অভিনেতার সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে!

“আমার ক্ষতি থেকে টাকা রোজগার বন্ধ করুন!” মাঝরাতে গর্জে উঠলেন ভাইজান
হাসপাতাল চত্বরের এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর পাপারাৎজিরা দুঃখপ্রকাশ করলেও সলমনের রাগ তাতে একটুও কমেনি। গভীর রাতে নিজের কয়েকটি হাসিমুখের সেলফি পোস্ট করে ইনস্টাগ্রামে রীতিমতো বিস্ফোরক ক্যাপশন লিখতে শুরু করেন অভিনেতা।

একটি পোস্টে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন:

“আমি যদি কখনও কোনও হাসপাতালে আমার যন্ত্রণার মুহূর্তে পাপারাৎজিদের আনন্দ করতে দেখি… যে পাপারাৎজিদের পাশে আমি সবসময় দাঁড়িয়েছি, যাদের রুটিরুজির খেয়াল রেখেছি, তাঁরা যদি আমার ক্ষতি থেকে টাকা রোজকার করতে চান, তবে চুপ থাকুন।”

এখানেই শেষ নয়, নিজের আগামী ছবি ‘মাতৃভূমি’ (Maatrubhumi)-কেও এই বিতর্কের মধ্যে টেনে আনেন অভিনেতা। কড়া ভাষায় ভাইজান লেখেন, “মাতৃভূমি ছবিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি জীবন?” ৬০ বছর বয়সী অভিনেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বয়স বাড়লেও তিনি লড়াই করতে ভোলেননি, আর নিজের আত্মসম্মানের দরকারে তিনি আবারও জেলে যেতেও রাজি আছেন!

কিন্তু কেন বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে সলমনের ‘মাতৃভূমি’?
সলমন খানের এই বহুপ্রতীক্ষিত ছবিটি নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। প্রথমে এই ছবির নাম ছিল ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ (Battle of Galwan)। পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া জানিয়েছেন, ছবির আবেগঘন দিকটি ফুটিয়ে তুলতেই নাম বদলে ‘মাতৃভূমি’ রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, এই দেরির পিছনে মূলত তিনটি বড় কারণ রয়েছে:

রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা: ২০২০ সালের ভারত-চীন গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পটভূমিতে তৈরি এই ছবির রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এড়াতে নির্মাতারা চিত্রনাট্যে কিছু জরুরি বদল আনছেন।

প্রশান্ত তামাংয়ের প্রয়াণ: ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা তথা গায়ক প্রশান্ত তামাংয়ের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে তাঁর অভিনীত বেশ কিছু দৃশ্যের কাজ নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।

নিখুঁত পোস্ট-প্রোডাকশন: সলমন খান নিজেই তাড়াহুড়ো করে ছবিটি মুক্তি দিতে চাননি, বরং ছবির মান আন্তর্জাতিক স্তরের করতে অতিরিক্ত ‘প্যাচ শুট’-এর ওপর জোর দিয়েছেন।

কার জন্য হাসপাতালে ছুটেছিলেন সলমন?
ভাইজান ঠিক কার জন্য হিন্দুজা হাসপাতালে গিয়েছিলেন, তা এখনও পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে তাঁর বাবা, বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সেলিম খান কিছুদিন আগেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবার সূত্রে কারণ যাই হোক না কেন, নিজের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা নিয়ে যে তিনি কোনও রকম আপস করবেন না, তা মাঝরাতের এই হুঙ্কারেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন বলিউডের ‘সুলতান’।