‘উন্নয়নের মাধ্যমে ঋণ শোধ করব’,-মুখ্যমন্ত্রী হয়েই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে মেগা ঘোষণা শুভেন্দুর

রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার শিলিগুড়ি পৌঁছানো মাত্রই বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের আমজনতা ও দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যান তিনি। এদিন উত্তরকন্যায় এক হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি তার নির্বাচনী ‘সংকল্প পত্রে’ উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হবে।

“২০০৯ সাল থেকে বিজেপিকে জায়গা দিয়েছে উত্তরবঙ্গ, এবার ঋণ শোধের পালা”

শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তরবঙ্গের আবেগ ছুঁয়ে বলেন, “উত্তরবঙ্গের পুণ্যভূমিকে আমি প্রণাম জানাই। ২০০৯ সাল থেকে দার্জিলিংয়ের পাহাড় এবং সামগ্রিকভাবে গোটা উত্তরবঙ্গ ভারতীয় জনতা পার্টিকে নিজেদের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে। উত্তরবঙ্গের জন্য বিজেপি তার সংকল্প পত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলি পূরণ করার মধ্য দিয়েই আমরা এই অঞ্চলের মানুষের ঋণ শোধ করব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “উত্তরবঙ্গের ন্যায্য অধিকার দীর্ঘদিন ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ এবার ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার করবে। শুধু মুখের কথায় নয়, কাজের গতি বাড়াতে এবার থেকে প্রতি মাসে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবং প্রয়োজনে গোটা মন্ত্রিসভা উত্তরবঙ্গের মানুষের দ্বারে পৌঁছে যাবে।”

“এই সরকার কোনও বিশেষ দলের নয়, এই সরকার সাধারণ মানুষের সরকার হবে। মানুষের জন্য, মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।” — শুভেন্দু অধিকারী (দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের উদ্দেশ্যে)

উত্তরকন্যায় প্রতি সপ্তাহে বসবেন মন্ত্রী

উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন করে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিজে সশরীরে ‘উত্তরকন্যা’ অফিসে উপস্থিত থাকবেন এবং সেখান থেকেই সমস্ত সরকারি ফাইল ও কাজের তদারকি করবেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার ওপর উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক স্তরেই দ্রুত সমস্যার সমাধান করতেই শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোক। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর জমানায় উত্তরবঙ্গের উন্নয়নই হবে রাজ্যের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।