‘ভাইপো’র ডেরায় বুলডোজার? অভিষেকের ১৭টি সম্পত্তির ‘বেআইনি’ অংশ ভাঙতে ৭ দিনের চরম ডেডলাইন!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মালিকানাধীন কিংবা তাঁর সঙ্গে যুক্ত শহরের অন্তত ১৭টি সম্পত্তির ‘অননুমোদিত’ বা বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা পুরসভা (KMC)। মঙ্গলবার পুরসভা সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

৭ দিনের ডেডলাইন, জমা দিতে হবে নকশা

সোমবার সন্ধ্যায় জারি হওয়া নোটিস অনুযায়ী, কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারা মোতাবেক অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে যে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে, তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে ওই ১৭টি ভবনের বিস্তারিত নকশা (As-built Drawing), ভবনের প্রতিটি অংশের ব্যবহার, কাঠামোগত বিবরণ এবং ভবনে লিফট বা এসকেলেটর থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও তলব করেছে পুর কর্তৃপক্ষ।

তবে পুর আধিকারিকদের বক্তব্য, এই নোটিসের বিরুদ্ধে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ জানানোর পূর্ণ সুযোগ রয়েছে অভিষেকের। কেন ওই অংশগুলি ভেঙে ফেলা হবে না, সে বিষয়েও তিনি পুরসভার কাছে নিজের ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

টার্গেটে আলিপুর-কালীঘাট! কোন বরোয় কত সম্পত্তি?

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ১৭টি সম্পত্তির সিংহভাগই দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকায় অবস্থিত। যার খতিয়ান নিম্নরূপ:

  • বরো ৯ (১৪টি সম্পত্তি): আলিপুর, চেতলা এবং কালীঘাট এলাকা এর অন্তর্গত। উল্লেখ্য, মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনও এই বরোর মধ্যেই পড়ে।

  • বরো ১০ (২টি সম্পত্তি): এর আওতায় রয়েছে যাদবপুর ও যোধপুর পার্ক এলাকা।

  • বরো ৮ (১টি সম্পত্তি): যার মধ্যে রয়েছে দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট এবং ভবানীপুর এলাকা।

অধিকাংশ সম্পত্তিই আবাসিক ভবন (Residential Buildings), যা কালীঘাট, পণ্ডিতিয়া-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। কোনও কোনও সম্পত্তির মালিকানা সরাসরি অভিষেকের নামে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা সংস্থার নাম জড়িত।

নোটিস বিতর্কের মাঝেই বরো চেয়ারপার্সনের ইস্তফা!

এই হাইভোল্টেজ নোটিস বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার এক নাটকীয় মোড় আসে কলকাতা পুরসভায়। বরো ৯-এর চেয়ারপার্সন তথা তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস আচমকাই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে চিঠি জমা দিয়েছেন। যদিও তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির নোটিসের কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশেষ আধিকারিকের এজলাসে শুনানি

পুরসভার সদর দফতরের ‘বিশেষ আধিকারিক’ (ভবন)-এর এজলাসে এই মামলার শুনানি হবে। সেখানে সম্পত্তির মালিক বা তাঁর প্রতিনিধি সশরীরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য জানাতে পারবেন। শুনানির পর বিশেষ আধিকারিক চাইলে অননুমোদিত অংশ ভাঙার চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে পারেন, অথবা নিয়ম মেনে জরিমানা (Regularization Fee) ধার্য করে সেই নির্মাণকে বৈধতার অনুমতিও দিতে পারেন।

নেপথ্যে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি?

প্রসঙ্গত, গত সোমবারই ক্যামাক স্ট্রিটের এক জনসভা থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের বর্তমান শীর্ষনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন যে, সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চারজন শীর্ষ তৃণমূল নেতার সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য ও খতিয়ান সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুরসভার এই ‘মেগা নোটিস’ রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।