এখনই কাটছে না হাঁসফাঁস গরম, আজই দক্ষিণবঙ্গের এই জেলাগুলোতে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী!

মে মাসের রুক্ষ চড়া রোদ আর সেই সঙ্গে লাগামহীন জলীয় বাষ্পের জেরে দক্ষিণবঙ্গের বাতাসে এখন যেন আগুনের হলকা। গত কয়েক দিন ধরে আর্দ্রতাজনিত চরম অস্বস্তিতে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন এখনই কোনোও সুখবর শোনাতে পারল না।
হাওয়া অফিসের স্পষ্ট পূর্বাভাস, এই সপ্তাহান্ত পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি থিতু হবে। বাতাসে আর্দ্রতার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় অনুভূত গরম বা ‘রিয়েল ফিল’ মানুষকে অনেক বেশি বিপর্যস্ত করবে।
কলকাতার আবহাওয়া চিত্র: প্যাচপেচে অস্বস্তি বজায় থাকবে
মহানগরে বুধবার সকাল থেকেই রোদের দাপটের পাশাপাশি মেঘের আনাগোনা দেখা যাবে। উত্তরোত্তর আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে দুপুরের দিকে অস্বস্তি চরমে পৌঁছাবে। যদিও বিকেলের দিকে কোনোও কোনোও জেলায় নামমাত্র ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
-
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
-
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
-
বাতাসে জলীয় বাষ্পের সর্বোচ্চ মাত্রা: ৮৭ শতাংশ (যা চরম প্যাচপেচে অস্বস্তি বজায় রাখবে)।
দক্ষিণে বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি
আজ বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় শক্তিশালী কালবৈশাখী আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি একাধিক জেলায় মেঘের গর্জনের সাথে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
সতর্কবার্তা: নদীয়া, বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানে শক্তিশালী কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, এই মেঘ-বৃষ্টির খেলা অত্যন্ত সাময়িক ও স্থানীয় স্তরে হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি অধরাই থাকবে।
উত্তরে বর্ষার বার্তা: কেরলে কবে ঢুকছে মৌসুমি বায়ু?
দক্ষিণবঙ্গের এই মরু-সদৃশ পরিস্থিতির ঠিক বিপরীতে অবস্থান করছে উত্তরবঙ্গ। হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় রবিবার পর্যন্ত লাগাতার দুর্যোগের সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে প্রবল বর্ষণের জেরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
| অঞ্চল | আবহাওয়ার পূর্বাভাস | সময়সীমা |
| দক্ষিণবঙ্গ | হাঁসফাঁস গরম ও কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি | সপ্তাহান্ত পর্যন্ত |
| উত্তরবঙ্গ | লাগাতার ভারী বৃষ্টি ও দুর্যোগের সতর্কতা | রবিবার পর্যন্ত |
এদিকে, ভারত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া অনুকূল পরিস্থিতির জেরে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যেই বেশ শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের একাংশেও দ্রুত বর্ষা ঢুকে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ক্যালেন্ডারের স্বাভাবিক সময়সীমা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনেকটাই আগে, অর্থাৎ আগামী ২৬ মে খোদ কেরলে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটাচ্ছে ভারতের মূল বর্ষা।