যুবসাথী ও অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত, কেন হবে ফের যাচাই? জানালো সরকার

জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা আনতে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল রাজ্য প্রশাসন। একদিকে যেমন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের প্রায় ৫৫ লক্ষ উপভোক্তার তথ্য নতুন করে স্ক্রুটিনি বা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই অন্যদিকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে এবার থেকে কোনও সুবিধাই মিলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুবসাথী প্রকল্পে কেন আচমকা স্থগিতাদেশ?
গত ৭ মার্চ যুবসাথী প্রকল্প চালু হওয়ার পর প্রথম দফায় প্রায় ১ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উপভোক্তার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৫ লক্ষ। এই বিশাল অঙ্কের বেকার ভাতার জন্য প্রতি মাসে সরকারের কোষাগার থেকে খরচ হচ্ছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে টাকা দেওয়া শুরু করায় উপভোক্তা তালিকায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ও গলদ ধরা পড়েছে। সেই কারণেই পুরো তালিকা আবার খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানত যা যা খতিয়ে দেখা হবে:
-
একই ব্যক্তির নামে বা একই অ্যাকাউন্টে একাধিকবার টাকা গিয়েছে কি না।
-
উপভোক্তা আদেও এই ভাতার জন্য যোগ্য কি না।
-
আবেদনপত্র এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যে কোনও গরমিল রয়েছে কি না।
জরুরি নোট: এই ব্যাপক যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি যতদিন না সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততদিন সাময়িকভাবে যুবসাথী প্রকল্পের বেকার ভাতার টাকা প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন শর্তাবলী
পাশাপাশি, নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজ্যের সব মহিলা এই আর্থিক সুবিধা পাবেন না। প্রকল্পটির অপব্যবহার রুখতে বেশ কিছু কড়া ফিল্টার বসানো হয়েছে:
-
আয়কর দাতা: কর বা ইনকাম ট্যাক্স দেন এমন মহিলারা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন।
-
সরকারি চাকরি ও পেনশন: কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি কর্মী এবং সরকারি পেনশনভোগীরা এর সুবিধা পাবেন না।
-
আধা-সরকারি কর্মী: অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষক, পঞ্চায়েত, পুরসভা বা অন্য কোনও সরকারি সংস্থার কর্মীরাও এই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।
-
বয়সসীমা: আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
-
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: আবেদন গ্রহণযোগ্য হলে টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে (DBT) যাবে, তবে তার জন্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন বা সরকারি পরিচয়পত্র দ্বারা ভেরিফাইড (সংযুক্ত) থাকতে হবে।
১ জুন থেকে নতুন আবেদন প্রক্রিয়া
প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে অনলাইন ও অফলাইন— দুই মাধ্যমেই অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন আবেদনপত্র গ্রহণ করা শুরু হবে। আগের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তারা সরাসরি এই নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরিত হতে পারেন, তবে তা সম্পূর্ণভাবে নতুন শর্তপূরণের ওপর নির্ভর করবে।
নবান্ন সূত্রের দাবি, যেহেতু সমস্ত উপভোক্তার তথ্য ইতিমধ্যেই ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষিত রয়েছে, তাই পুনর্যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই— ভুল বা ডুপ্লিকেট নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত যোগ্য মানুষদের কাছেই যেন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছায়।