“মিসড কল দিয়েছ, এটা মানছি না!” মাঠের মাঝেই ধোনিকে কেন এমন বললেন সুরেশ রায়না?

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে হেরে চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) এবারের আইপিএল ২০২৬ অভিযান কার্যত শেষের পথে। প্লে-অফের আশা প্রায় শেষ হতেই চিপকে তৈরি হলো এক আবেঘন পরিবেশ। সিএসকে-র কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনি এই ম্যাচে উপস্থিত থাকলেও মাঠে নামেননি। তবে ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে চিপক স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেন মাহি এবং গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।
এর মাঝেই মাঠে প্রাক্তন সতীর্থ ও দীর্ঘদিনের বন্ধু সুরেশ রায়নার সঙ্গে দেখা করেন ধোনি। পরবর্তী মরশুমে হলদে জার্সিতে মাহিকে আবার দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র জল্পনার মাঝেই এক বড় তথ্য ফাঁস করলেন রায়না।
“আইপিএল ২০২৬ একটা মিসড কল!” ধোনিকে কী বললেন রায়না?
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে সুরেশ রায়না জানান, মাঠে ধোনির সঙ্গে তাঁর কী কথোপকথন হয়েছিল। রায়না ধোনিকে অনুরোধ করেছেন যেন আগামী বছর অর্থাৎ আইপিএল ২০২৭-এ তিনি অবশ্যই সিএসকে-র হয়ে মাঠে নামেন।
রায়না বলেন, “আমি ওকে বলেছিলাম, তুমি আইপিএল ২০২৬-কে একটা মিসড কল দিয়েছো, এটা কাউন্ট হবে না। তোমাকে আগামী বছর ফিরতেই হবে।”
এর জবাবে নাকি ধোনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমার শরীর একটু দুর্বল লাগছে।” তবে বন্ধু রায়নাও ছাড়ার পাত্র নন, তিনি পাল্টা বলেন, “আমরা এটা মানছি না, তোমাকে খেলতেই হবে।” রায়নার মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ধোনির ব্যক্তিগত হলেও, মাহির মনোভাব এখনও ইতিবাচক রয়েছে।
ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলছেন কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং?
চলতি মরশুমে ফিটনেস সমস্যার কারণে ধোনি এখনও পর্যন্ত একটিও ম্যাচ খেলেননি। আগামী মরশুমে ধোনি খেলবেন কি না— এই প্রশ্নে সিএসকে কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি।
ফ্লেমিং জানান, “এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ম্যানেজমেন্টের। ধোনিকে নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে, সেটা আমি জানি। যদিও ও খেলেনি, তবুও পুরো মরশুমে দলের সঙ্গে থেকেছে এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য ওর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ড্রেসিংরুমে ওর প্রভাব এখনও বিশাল।”
চোট নাকি তরুণদের সুযোগ দেওয়ার কৌশল?
পুরো মরশুম জুড়েই ধোনির খেলা নিয়ে একটা রহস্যের পরিবেশ বজায় ছিল। সিএসকে ম্যানেজমেন্ট বারবার জানিয়েছে যে ধোনি চোটগ্রস্ত। তবে ক্রিকেট মহলের অন্য একটি মত বলছে, ধোনি হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজেকে মাঠের বাইরে রেখেছেন, যাতে তরুণ ক্রিকেটাররা বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। কারণ হিসেবে ফ্লেমিংও জানিয়েছেন যে, এবার তারা বেশ কয়েকজন নতুন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়েছেন যারা ভবিষ্যতের মুখ হয়ে উঠতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের ফলাফলই সব বিচার করবে।