সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে উপত্যকায় লস্কর-যোগ! ৫ নাবালকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রিপোর্ট জমা দিল এনআইএ

জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল দেশের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ (NIA)। জম্মু ও কাশ্মীরের বেশ কিছু স্ট্র্যাটেজিক এবং সংবেদনশীল এলাকার গোপন ছবি পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করার অভিযোগে পাঁচজন কিশোরের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করল কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। এই ঘটনা সামনে আসতেই দেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

এনআইএ-র দেওয়া বিশেষ রিপোর্টে জানা গেছে, ধৃত বা অভিযুক্ত এই পাঁচ কিশোর সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সীমান্ত ওপারের কুখ্যাত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন যেমন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) বা জৈশ-ই-মহম্মদের (JeM) সাইবার উইংয়ের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। ভারতের ভূখণ্ডের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, চেকপোস্ট এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ভৌগোলিক এলাকার ছবি ও নিখুঁত ভিডিও নিজেদের মোবাইল ক্যামেরায় তুলে তারা পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করত বলে অভিযোগ।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। এই কিশোরদের অনেকেই মূলত অনলাইন গেমিং অ্যাপ এবং চ্যাটরুমের ফাঁদে পড়ে পাকিস্তানি এজেন্টের খপ্পরে পড়েছিল। প্রথমে ছোটখাটো টাকার লোভ দেখিয়ে বা সামান্য আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সাধারণ কিছু ছবি চাওয়া হতো। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ব্ল্যাকমেল করে এবং উগ্রপন্থী ভাবধারায় প্রভাবিত করে এই ধরনের মারাত্মক দেশবিরোধী ও সংবেদনশীল কাজে লিপ্ত করা হয়।

তদন্তকারী অফিসারদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে সীমান্ত ওপার থেকে কিশোর ও যুবসমাজকে নিশানা করা হচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ। অভিযুক্ত ৫ কিশোরের গতিবিধি এবং তাদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলি খতিয়ে দেখার পরই এনআইএ-র তরফে আদালতের কাছে এই বিশেষ চার্জশিট বা অ্যাকশন রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। দেশের সুরক্ষাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবং উপত্যকার কিশোরদের এই ধরনের আন্তর্জাতিক মারণফাঁদ থেকে বাঁচাতে অভিভাবক মহলে বাড়তি সচেতনতা জারির পাশাপাশি গোটা এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসন।

Editor001
  • Editor001