ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান নাকি দুর্নীতির ব্ল্যাকবক্স ওপেন? মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবির পর তোলপাড় নবান্ন থেকে ক্যামাক স্ট্রিট

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রতিদিন একের পর এক চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে আসছে। তবে সোমবার সন্ধ্যায় যা ঘটল, তা একপ্রকার নজিরবিহীন। কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত এক হাইপ্রোফাইল ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মেগা মঞ্চ থেকে রাজ্যের বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক পরমাণু বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলটির শীর্ষ স্তরের চার হেভিওয়েট নেতার নাম উল্লেখ করে, তাঁদের কার কত কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তি রয়েছে, তার এক হাড়হিম করা খতিয়ান জনসমক্ষে ফাঁস করে দিলেন তিনি। ‘ভাইপো’ থেকে শুরু করে ‘সোনাপাপ্পু’— মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক তালিকায় নাম রয়েছে চারজন শীর্ষ নেতার।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলার সাধারণ মানুষের হকের টাকা, চাকরিপ্রার্থীদের রক্ত জল করা উপার্জন কীভাবে লুট করা হয়েছে, তার সমস্ত প্রমাণ এখন নতুন সরকারের হাতে। ক্যামাক স্ট্রিটের এই চত্বর থেকেই ভাইপো অ্যান্ড কোম্পানি গোটা রাজ্যের সিন্ডিকেট রাজ নিয়ন্ত্রণ করত।” এরপরই তিনি একে একে তৃণমূলের চার প্রভাবশালী নেতার নাম ও তাঁদের সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরেন। শুভেন্দুর দাবি, এই ৪ নেতার দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বিপুল সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে সাধারণ মানুষের চোখ চড়কগাছ হতে বাধ্য।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্যামাক স্ট্রিটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ড্যামেজ-কন্ট্রোল বা আক্রমণাত্মক কৌশল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিদায়ী শাসকদলের দুর্নীতিকে যে নতুন সরকার বিন্দুমাত্র রেয়াত করবে না এবং আইনি তদন্তের জল কতদূর গড়াতে পারে, এই মেগা মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী তার এক স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়ে দিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক দাবির পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন কম্পন শুরু হয়েছে। তৃণমূলের ওপর এই পাহাড়প্রমাণ আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই চার হেভিওয়েটের বিরুদ্ধে সরকার বড় কোনও পদক্ষেপ করে কিনা, এখন সেটাই দেখার।