“টার্গেট এবার তেহরান?” মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ জুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ, ওয়াশিংটনের অন্দরে চলছে কোন গোপন প্রস্তুতি?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। গাজা এবং লেবানন সংকটের মাঝেই এবার সরাসরি ইরানকে কোণঠাসা করতে কোমর বাঁধছে দুই মহাশক্তি আমেরিকা ও ইজরায়েল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদসংস্থার সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে এক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ওই প্রতিবেদনের সূত্র অনুযায়ী, ইরানের মাটিতে ফের এক বড়সড় এবং বিধ্বংসী সামরিক হামলার যৌথ ব্লুপ্রিন্ট বা ছক কষছে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ।
বিগত কয়েক মাসে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টা-পাল্টি লড়াইয়ের পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত মনে হলেও, নেপথ্যে যে এক বিশাল সামরিক প্রস্তুতির সলতে পাকানো হচ্ছিল, তা এই রিপোর্টে স্পষ্ট। মার্কিন গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এবং প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিষ্ক্রিয় করতেই এই গোপন অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে তাদের অস্তিত্বের জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে ইজরায়েলের এই আগ্রাসী রণকৌশলকে পর্দার আড়াল থেকে পূর্ণ মদদ দিচ্ছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যদি ইরান বা তাদের সমর্থিত কোনও গোষ্ঠী (যেমন হিজবুল্লাহ বা হুথি) নতুন করে কোনও উস্কানিমূলক পদক্ষেপ করে, তবে যৌথভাবে এই মেগা হামলা চালানো হতে পারে। এর জন্য ইতিমধ্যেই ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে।
যদিও এই প্রতিবেদনের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অফিশিয়ালি কোনও সিলমোহর দেওয়া হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই জল্পনা যদি সত্যি হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি ও সুরক্ষাকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে এর এক মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এখন দেখার, মার্কিন সংবাদসংস্থার এই বিস্ফোরক দাবির পর তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা কী রণকৌশল নেওয়া হয়।