ভোটের মুখে ডায়মন্ড হারবারের ‘গড়ে’ ওলটপালট! ৫ এফআইআর সত্ত্বেও ২৬ মে পর্যন্ত কেন হাত ছোঁয়াতে পারবে না পুলিশ?

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বিরাট চমক। আইনি লড়াইয়ে এক নজিরবিহীন সাময়িক স্বস্তি পেলেন ফলতার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ জাহাঙ্গির খান। রাজনৈতিক মহলে যিনি ‘পুষ্পা’ নামেও বেশ চর্চিত। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, আগামী ২৬ মে— অর্থাৎ ফলতার ভোট মেটার আগে পর্যন্ত জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ধরনের কঠোর বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় মোট ৫টি সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছিল। ব্যাপক অনিয়মের কারণে ফলতার ভোট বাতিল হওয়ার পর, আগামী বৃহস্পতিবার সেখানে নতুন করে নির্বাচন হতে চলেছে। এই ভোটের মুখে পুলিশ তাঁকে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার করতে পারে, এমন একটা চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পুলিশি খাঁড়া এড়াতে এবং আইনি সুরক্ষার খোঁজে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জাহাঙ্গির খান।

সোমবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গির খানকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিলেও, তাঁর ওপর একাধিক কড়া শর্ত আরোপ করেছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই স্বস্তি শর্তসাপেক্ষ। আইনি সুরক্ষা বজায় রাখতে গেলে জাহাঙ্গির খানকে নির্বাচন কমিশনের সমস্ত বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। নির্বাচনী এলাকায় কোনোভাবেই ভোটারদের প্রভাবিত করা চলবে না এবং জনসমক্ষে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বা বিতর্কিত মন্তব্য করা যাবে না।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের ঠিক আগে এই ৫টি এফআইআর-এর ভিত্তিতে হওয়া মামলায় হাইকোর্টের এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ২৬ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে। তবে আদালতের এই রায়ের ফলে ভোটের ঠিক আগে শাসক ও বিরোধী— দুই শিবিরের নির্বাচনী কৌশলে যে বড়সড় ওলটপালট হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। আপাতত মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ফলতার ‘পুষ্পা’-র গায়ে পুলিশ হাত দিতে পারছে না।

Editor001
  • Editor001