ছেলের কীর্তি ঢাকতে এবার চরম হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর! নির্দেশ অমান্য করলেই ‘আদালত অবমাননা’, তোলপাড় দেশ

পকসো (POCSO) আইনে অভিযুক্ত ছেলের সম্মান বাঁচাতে এবার দেশের সমস্ত প্রথম সারির ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে একযোগে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার। তাঁর ছেলে বান্দি ভগীরথের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের খবর ও ভিডিও যাতে ইন্টারনেট থেকে অবিলম্বে মুছে ফেলা হয়, সেজন্য হায়দ্রাবাদের একটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ছেলের বিরুদ্ধে কোনো খবর বা কন্টেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় রাখলে, সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ‘আদালত অবমাননা’-র কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রীর আইনজীবী।

হায়দ্রাবাদের সিটি সিভিল কোর্টে দাখিল করা এক আবেদনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং মিডিয়া হাউসগুলোকে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ছড়ানো সমস্ত তথাকথিত মানহানিকর বিষয়বস্তুর প্রচার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার নির্দেশনা চেয়েছেন।

ইউটিউব-ফেসবুককে চরম হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর আইনজীবীর
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আইনজীবী করুণাসাগর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা আদালতের কাছে দুটি অন্তর্বর্তীকালীন আপিল দাখিল করেছি। প্রথম আবেদনে সমস্ত ডিজিটাল মিডিয়া চ্যানেল, বিশেষ করে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এবং ইউটিউব, ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা মন্ত্রীপুত্র বান্দি ভগীরথের বিরুদ্ধে কোনো মানহানিকর বিষয়বস্তু সম্প্রচার বা প্রকাশ না করে।”

দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, গত এক সপ্তাহ ধরে সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে মন্ত্রীপুত্রের কুকীর্তি নিয়ে যে সমস্ত ভিডিও বা কন্টেন্ট প্রচারিত হয়েছে, তা অবিলম্বে ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এই আইনি নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে যে কারও বিরুদ্ধে ‘আদালত অবমাননা’ সংক্রান্ত কঠোর ধারায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালত ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

কী সেই ভয়ঙ্কর অভিযোগ মন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে?
এই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারের ছেলে বান্দি ভগীরথের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি পকসো মামলার হাত ধরে। ১৭ বছর বয়সী এক নাবালিকার মা অভিযোগ করেছেন যে, ভগীরথ তাঁর মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট ছিল এবং পরবর্তীতে মেয়েটিকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করে।

গত ৮ই মে এই অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দ্রাবাদ পুলিশ মন্ত্রীপুত্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৭৪ ও ৭৫ ধারা এবং পকসো (POCSO) আইনের ১১ ও ১২ ধারায় একটি মারাত্মক মামলা নথিভুক্ত করে।

হাইকোর্টে বড় ধাক্কা, মধ্যরাত পর্যন্ত চলল শুনানি!
যৌন হয়রানির অভিযোগ সামনে আসতেই গ্রেপ্তারের ভয়ে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মন্ত্রীপুত্র বান্দি ভগীরথ। কিন্তু সেখানেও তাঁর ভাগ্য সহায় হয়নি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-এর খবর অনুযায়ী, তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট তাঁকে গ্রেপ্তার থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিতে স্পষ্ট অস্বীকার করেছে, যা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পরিবারের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।

হাইকোর্টের বিচারপতি টি. মাধবী দেবী শুক্রবার সন্ধ্যায় এই অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি করার সময় সাফ জানিয়ে দেন যে, মামলার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে তিনি অভিযুক্তকে কোনো রকম অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বা সুরক্ষা দিতে আগ্রহী নন। যদিও ভগীরথের আইনজীবী আদালতের চূড়ান্ত আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তারের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, কিন্তু আদালত মধ্যরাত পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। জানানো হয়েছে, পরবর্তী অবকাশকালীন আদালতের (Vacation Court) দিন এই বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ জারি করা হবে। ফলে আপাতত গ্রেপ্তারির খাঁড়া ঝুলছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের ওপর।