বিদেশ ভ্রমণে অতিরিক্ত ট্যাক্স বসাতে চলেছে কেন্দ্র? সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী!

করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে ভারতসহ গোটা বিশ্ব যখন তীব্র জ্বালানি সঙ্কট ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে বাজারে ঘুরপাক খাচ্ছে নানাবিধ গুজব ও ভুয়ো খবর। এবার সেই সব জল্পনায় জল ঢেলে খোদ কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ ভ্রমণে সরকারের অতিরিক্ত ট্যাক্স বসানোর জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

বিতর্ক ঠিক কী নিয়ে?
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার (ফরেন রিজার্ভ) ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশ ভ্রমণের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক, সেস বা সারচার্জ বসানোর পরিকল্পনা করছে। রিপোর্টে বলা হয়, আগামী এক বছরের জন্য এই সাময়িক কর চাপানো হতে পারে এবং এই অর্থ সরাসরি সরকারি তহবিলে জমা পড়বে। এই নিয়ে নাকি সরকারের শীর্ষস্তরে আলোচনাও চলছে। এই খবরটি চাউর হতেই আমজনতা ও পর্যটন মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।

কড়া জবাব প্রধানমন্ত্রী মোদীর
এই বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আর চুপ থাকেননি প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (প্রাক্তন টুইটার) ওই সংবাদমাধ্যমের পোস্টের নিচে সরাসরি রিপ্লাই দিয়ে তিনি লেখেন, “এই খবরের মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা খবর। বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বা নতুন করে কোনো কর চাপানোর প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের সরকার সবসময় জনগণের জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে (ইজ অফ লিভিং অ্যান্ড ডুইং বিজনেস) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পিছু হটে ওই সংবাদমাধ্যমটি। তারা দ্রুত তাদের প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয় এবং এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ক্ষমা চায়। সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়, “বিদেশ ভ্রমণে সরকারের কর বসানোর খবরটি সঠিক ছিল না। আমরা খবরটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং এই ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।”

দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর আসল আর্জি কী ছিল?
কর বসানোর খবরটি ভুয়ো হলেও, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশবাসীকে কিছু বিষয়ে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ অবশ্য আগেই করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গত রবিবার তেলঙ্গানার একটি অনুষ্ঠান থেকে তিনি দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার মজবুত রাখার আবেদন জানান।

প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে যত বেশি সম্ভব গণপরিবহন (বাস বা ট্রেন) ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে আগামী এক বছর অপ্রয়োজনে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। দেশের টাকা দেশে রাখতে এবং ফরেন রিজার্ভ শক্তিশালী করতে আপাতত ডেস্টিনেশন ওয়েডিং (বিদেশে গিয়ে বিয়ে) এবং বিলাসবহুল বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলারও আর্জি জানান নরেন্দ্র মোদী। তবে এই পুরো বিষয়টাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর একটি আন্তরিক অনুরোধ, কোনো বাধ্যতামূলক সরকারি নিয়ম বা ট্যাক্স নয়— তা এবার স্পষ্ট হয়ে গেল।