হাসপাতালের বেড নিয়ে আর হবে না নয়ছয়! ‘দালালরাজ’ খতম করতে শুভেন্দুর মহাজাগতিক মাস্টারপ্ল্যান

রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার খোল নলচে বদলে দিতে এবার অল-আউট ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে এবং সরকারি হাসপাতালগুলি থেকে দীর্ঘদিনের জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ‘দালালরাজ’ একঝটকায় নির্মূল করতে একগুচ্ছ কড়া ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন তিনি। এসএসকেএম হাসপাতালে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে এই সংক্রান্ত এক মাস্টারপ্ল্যান সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও জনবান্ধব করে তোলাই যে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য, তা এদিনের বৈঠক থেকেই স্পষ্ট। মূলত বেড ম্যানেজমেন্ট, সেন্ট্রাল মনিটরিং এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
৩১ মে-র ডেডলাইন: বাধ্যতামূলক হচ্ছে রঙিন সচিত্র পরিচয়পত্র
হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগত এবং দালালদের সিন্ডিকেট রুখতে কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছে প্রশাসন। আগামী ৩১ মে-র মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সচিত্র রঙিন পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে কর্তব্যরত কর্মীদের আড়ালে কোনও বহিরাগত বা দালাল যাতে রোগীদের প্রতারিত করতে না পারে, তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
বেড জালিয়াতি রুখতে ‘সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম’
সরকারি হাসপাতালে গিয়ে বেড না পেয়ে রোগীদের হয়রানি বা ফিরে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এই চেনা সঙ্কট চিরতরে মেটাতে মুখ্যমন্ত্রী ‘সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এবার থেকে রাজ্য, জেলা এবং কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালের বেড সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য একটিমাত্র কেন্দ্রীয় পোর্টালে নথিভুক্ত থাকবে।
সবচেয়ে বড় চমক হলো ‘রিয়েল টাইম ভ্যাক্যান্ট বেড ডিসপ্লে’। অর্থাৎ, কোন হাসপাতালে ঠিক এই মুহূর্তে কয়টি বেড খালি রয়েছে, তা সাধারণ মানুষ সরাসরি পোর্টালে লাইভ দেখতে পাবেন। ফলে বেড লুকিয়ে রেখে কালোবাজারি করার কোনও সুযোগই আর থাকবে না। এই পুরো ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজে নজরদারি চালাবেন বলে জানিয়েছেন।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জিপিএস অ্যাম্বুলেন্স: কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগ
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই আমূল সংস্কারে কেবল নজরদারি নয়, পরিকাঠামো বৃদ্ধির ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
-
বেড বৃদ্ধি: এসএসকেএম-সহ রাজ্যের সমস্ত বড় বড় সরকারি হাসপাতালে অবিলম্বে বেডের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
অ্যাম্বুলেন্স ট্র্যাকিং: রোগীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া বা দালালি রুখতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস (GPS) লাগানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে যে কোনও অ্যাম্বুলেন্সের গতিবিধি সরাসরি ট্র্যাক করা যাবে।
-
যৌথ চুক্তি: চিকিৎসার ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে বেড শেয়ারিংয়ের বিশেষ চুক্তি করবে রাজ্য সরকার। এমনকি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বেডের কী পরিস্থিতি, তার ওপরেও কড়া নজর রাখবে প্রশাসন।
রাজ্যের স্বাস্থ্যবিভাগের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও জট কাটাতে দলমত নির্বিশেষে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন দেখার, ৩১ মে-র ডেডলাইনের পর রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার এই চেনা ছবিটা কতটা বদলে যায়।