দিল্লির পথে এবার বাংলাও! কেন হুট করে নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

নতুন স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্র বসুর নির্বাচিত হওয়ার দিনই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এক বড়সড় ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে দেশের রাজধানীর পর এবার কলকাতাতেও তৈরি হতে চলেছে এক সম্পূর্ণ নতুন ও অত্যাধুনিক বিধানসভা ভবন। নতুন স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের ঐতিহাসিক দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে। আর এই পুরো পরিকল্পনার নেপথ্যে কাজ করছে ২০২৬ সালের আসন্ন ‘ডিলিমিটেশন’ বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া।
কী এই ডিলিমিটেশন? কেন আসন সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা?
আসলে ২০২৬ সালের ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেন্দ্র সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০-এর বেশি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০১১ সালের আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া এই নতুন খসড়া অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮১৬ বা তার বেশি হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নতুন আসন বিন্যাসের সাথেই যুক্ত হতে চলেছে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ (৩৩ শতাংশ) সংরক্ষণের ঐতিহাসিক বিধান। আসন সংখ্যা এবং সীমানা নির্ধারণের এই গোটা প্রক্রিয়াটি মূলত জনঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে সঠিক ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা যায়। এই নতুন ব্যবস্থাটি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলা বিধানসভাতেও আসন বৃদ্ধি, সমস্যা বসার জায়গা নিয়ে
জাতীয় স্তরে এই আসন পুনর্বিন্যাসের ধাক্কা এসে পড়বে এ রাজ্যেও। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও বিধায়কদের আসন সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে মূল সমস্যা। বর্তমান বিধানসভা কক্ষের যে পরিকাঠামো রয়েছে, তাতে বর্ধিত সংখ্যক বিধায়কদের বসার বা অবস্থান সঙ্কুলানের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এই পরিকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কোথায় তৈরি হবে নতুন ভবন? দিল্লির পথে হাঁটবে কলকাতা?
নতুন এই বিধানসভা ভবন ঠিক কোথায় তৈরি করা হবে, তা নিয়ে অবশ্য এখনও পুরোপুরি ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থাপত্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই বিষয়ে দিল্লির পথেই হাঁটতে পারে বাংলা।
দিল্লিতে যেভাবে পুরনো সংসদ ভবনের ঠিক পাশেই তৈরি হয়েছে নতুন ও দৃষ্টিনন্দন ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা’ বা নতুন সংসদ ভবন, কলকাতার বুকেও তেমনটা হওয়া অসম্ভব নয়। কারণ, বর্তমান বিধানসভা ভবনের চত্বরের ভিতরেই বেশ কিছুটা ফাঁকা জায়গা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, দিল্লির ধাঁচেই সেই ফাঁকা চত্বরেই গড়ে তোলা হতে পারে বাংলার নতুন বিধানসভা ভবন। তবে সরকারের এই মেগা প্রজেক্টের নীল নকশা শেষ পর্যন্ত কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার।