ভোজশালা বিতর্কে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের! মসজিদ নয়, দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবেই পেল স্বীকৃতি

লোকসভা নির্বাচনের আবহে দেশের ধর্মীয় রাজনীতির অন্দরে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। ধার জেলায় অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন এবং বিতর্কিত ‘ভোজশালা’ চত্বরটিকে এবার হিন্দু মন্দিরের স্বীকৃতি দিল আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি আসলে ‘দেবী সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির’।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চের বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি অলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ পাঁচটি আবেদন এবং তিনটি ইন্টারভেনশনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে শুক্রবার এই যুগান্তকারী রায় প্রকাশ করেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতি এবং ধর্মীয় মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
হিন্দুদের পূজার অধিকার, এএসআই-এর দায়িত্বে থাকবে চত্বর
হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কেবল এটিকে মন্দিরের স্বীকৃতিই দেয়নি, পাশাপাশি হিন্দু পক্ষকে এই ভোজশালা চত্বরে নিয়মিত পূজা করার আইনি অধিকারও প্রদান করেছে। তবে সুরক্ষার স্বার্থে এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বজায় রাখতে ভোজশালা চত্বরের সম্পূর্ণ জিম্মা বা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ‘ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বক্ষণ বিভাগ’ বা এএসআই (ASI)-এর কাছেই রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমির নির্দেশ
দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এই স্থানটিকে ‘কামাল মওলা মসজিদ’ হিসেবে দাবি করে আসছিলেন এবং সেখানে তাঁদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতেন। মুসলিম পক্ষের সেই দাবি খারিজ করে দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তাঁরা চাইলে এই মসজিদের জন্য সরকারের কাছে বিকল্প জমি চাইতে পারেন। প্রশাসনকে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ করার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।
রাজ্য জুড়ে হাই অ্যালার্ট, শান্তি বজায় রাখার আবেদন
এই সংবেদনশীল রায়ের পর যাতে কোনওভাবেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। ধার এবং ইন্দোর জেলা জুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা সামাজিক শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষের মানুষের কাছেই জোরালো আবেদন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে কোনওরকম গুজব না ছড়ায়।