বিশ্বভারতীতে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ! সোশাল মিডিয়ায় সোচ্চার হতেই অধ্যাপককে আইনি নোটিশ কর্তৃপক্ষের, তুঙ্গে শোরগোল!

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এবং ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ তকমা প্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবার এক চরম আইনি ও প্রশাসনিক তরজায় জড়াল। সোশাল মিডিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ‘মানহানিকর’ মন্তব্য এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ তোলায় শ্রীরামপুর কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমন ঘোষকে কড়া আইনি নোটিশ পাঠাল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিতর্কিত পোস্ট মুছে অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর, যখন বিশ্বভারতীর বিভিন্ন বিভাগে ১০৯টি সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেই মতো হুগলি জেলার শ্রীরামপুর কলেজের বাংলা বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষক সুমন ঘোষও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ২০ বছর অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তাঁকে ইন্টারভিউতে ডাকেনি। উল্টে তাঁর চেয়ে অনেক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীরা ডাক পেয়েছেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ও ‘অস্বচ্ছ’ দাবি করে তিনি সোশাল মিডিয়ায় সরব হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনেও (ইউজিসি) লিখিত অভিযোগ জানান। এই প্রতিবাদের জেরে মাঝখানে কিছুদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতও রাখা হয়েছিল বলে একাংশের দাবি।
অধ্যাপকের এই ফেসবুক পোস্ট এবং প্রকাশ্য সমালোচনাকে ভালো চোখে দেখেনি শান্তিনিকেতন কর্তৃপক্ষ। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “বিশ্বভারতীর একটি অনন্য গরিমা রয়েছে। এখানে সমস্ত কাজ কঠোরভাবে ইউজিসির গাইডলাইন বা নির্দেশিকা মেনেই সম্পন্ন হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো রকম ভিত্তিহীন অপপ্রচার করা হলে প্রশাসন চুপ করে বসে থাকবে না। সেই কারণেই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, আইনি নোটিশ পাওয়ার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিযুক্ত অধ্যাপক সুমন ঘোষ। তিনি জানান, পরিচিত কিছু প্রার্থীর অনুরোধে তিনি ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়া থেকে তাঁর সেই পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন। তবে নিজের অভিযোগ থেকে তিনি একচুলও সরছেন না। সুমনের কথায়, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে বড়সড় গলদ রয়েছে, তা একশো শতাংশ সত্যি। শুধু বাংলা বিভাগেই নয়, বিশ্বভারতীর একাধিক বিভাগের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেন ব্রাত্য রাখা হলো, সেই প্রশ্ন আমি তুলবই।”
প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতী ভারতের একমাত্র চলমান কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিদর্শক হলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং আচার্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অমর্ত্য সেন, সত্যজিৎ রায়, ইন্দিরা গান্ধীর মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বরা যে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী, সেখানে নিয়োগের এই বিতর্ক ও আইনি লড়াই রাজ্যের শিক্ষামহলে এক বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার, এই নোটিশের পর অধ্যাপক সুমন ঘোষ কী পদক্ষেপ নেন এবং বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষই বা কতদূর এগোয়।