এক ফোঁটা দুধের জন্য যখন হাহাকার, তখন ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করে ইতিহাস গড়লেন এই যুবতী! নেপথ্যের আসল কারণ কী?

একবিংশ শতকে দাঁড়িয়েও যখন মাতৃদুগ্ধের অভাব এবং নবজাতকদের অপুষ্টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চিন্তার শেষ নেই, ঠিক তখনই এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক তরুণী। নিজের মাতৃত্বের স্বাদকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে, প্রায় ৬০ লিটার স্তন্যদুগ্ধ (Breast Milk) দান করে গোটা দেশে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরা যেখানে মাতৃদুগ্ধকে নবজাতকদের রোগ প্রতিরোধের জন্য ‘সঞ্জীবনী সুধা’ বলে অবিহিত করেন, সেখানে এই তরুণীর এমন মানবিক উদ্যোগ রাতারাতি তাঁকে নেটদুনিয়ার হিরো বানিয়ে তুলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবরটি চাউর হতেই প্রশংসার বন্যা বয়ে গেছে। সাধারণত, অনেক প্রসূতি মায়েরই সন্তান জন্মের পর পর্যাপ্ত বুকের দুধ তৈরি হয় না, যার ফলে বিপাকে পড়তে হয় সদ্যোজাত শিশুদের। বিশেষ করে প্রি-ম্যাচিউরড বা সময়ের আগে জন্মানো শিশুদের ক্ষেত্রে মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এই ধরণের শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং জীবন বাঁচাতে লাইফ সেভার হিসেবে কাজ করে দান করা মাতৃদুগ্ধ।

উদ্যোগী ওই তরুণী জানিয়েছেন, নিজের সন্তানের প্রয়োজনের অতিরিক্ত দুধ নষ্ট না করে, তা হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকে (Human Milk Bank) দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিন্দু বিন্দু করে জমিয়ে সেই দানের পরিমাণ যখন ৬০ লিটারে পৌঁছায়, তখন খোদ হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও অবাক হয়ে যান। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, মাতৃদুগ্ধে থাকা ইমিউনোগ্লোবুলিন এবং অ্যান্টিবডি শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে।

আজকের ব্যস্ত দুনিয়ায় যেখানে মানুষ নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে সময় পায় না, সেখানে এই তরুণীর এমন নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ সমাজের জন্য এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। মিল্ক ব্যাংকের আধিকারিকদের মতে, এই ৬০ লিটার দুধের মাধ্যমে বহু অসুস্থ ও অনাথ শিশুর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে। গ্ল্যামার বা সস্তা প্রচারের আলো থেকে দূরে সরে, নীরব সমাজসেবার এই অনন্য নজির সত্যিই কুর্নিশ জানানোর মতো।