বুলডোজার রুখে দিল আদালত! ‘আগে মাথার ছাদ, তারপর উচ্ছেদ’, তিনজলা মামলায় ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের

কোনো বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে খাস কলকাতার তিনজলা এলাকায় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙা যাবে না। আজ, শুক্রবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর মামলায় এমনই মানবিক ও কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। তিনজলা এলাকায় বাড়ি ভাঙার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকদের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়ার আগে তাঁদের বিকল্প মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে। হাইকোর্টের এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটানো এলাকার শয়ে শয়ে পরিবার।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিনজলা এলাকায় বেশ কিছু বাড়িকে বেআইনি বা উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় এনে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। রাতারাতি ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে ভুগছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যাঁদের মধ্যে সিংহভাগই নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর। পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেন ভুক্তভোগীরা। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে মামলা দায়ের করা হলে, আজ সেই মামলার শুনানিতেই রাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন বিচারপতি।

মামলার শুনানির সময় আদালত স্পষ্ট করে, আইন বা নিয়মের দোহাই দিয়ে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা যায় না। পুনর্বাসন না দিয়ে এভাবে বুলডোজার বা উচ্ছেদ অভিযান চালানো আইনসম্মত নয়। হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত তিনজলা এলাকায় কোনও বাড়ি ভাঙা বা উচ্ছেদ করা যাবে না।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় যখন উচ্ছেদ এবং বেআইনি নির্মাণ ভাঙা নিয়ে নিত্যদিন বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, তখন হাইকোর্টের এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নজির হয়ে রইল। এই স্থগিতাদেশের পর রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন পুনর্বাসনের জন্য কী বিকল্প ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে প্রশাসনকে তাদের জবাব পেশ করতে হতে পারে বলে জানা গেছে।