ক্ষমতার বদল হলেও কমেনি দম্ভ? মেদিনীপুরে বিজেপি নেতার কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে চরম হুঁশিয়ারি, এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা!

বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া দাওয়াই চালু হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিচুতলার রাজনৈতিক হিংসা ও দম্ভ যে পুরোপুরি কমেনি, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই রাতেই অ্যাকশনে নামে পুলিশ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ৪ জন দাপুটে তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই বিজেপি নেতা এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। ঘটনার দিন পাঁশকুড়ার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সাংগঠনিক কাজ সেরে ফেরার পথে আচমকাই তাঁর পথ আটকায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সরাসরি তাঁর কপালে ঠেকায় এবং দল না ছাড়লে বা এলাকা থেকে না সরলে সপরিবারে খতম করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

উদ্ধার তাজা কার্তুজ ও আগ্নেয়াস্ত্র

আক্রান্ত নেতার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে অভিযুক্তেরা চম্পট দেয়। এরপরই পাঁশকুড়া থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব এবং আক্রান্ত ব্যক্তি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি জেলা পুলিশ। মাঝরাতেই পাঁশকুড়ার বিভিন্ন ডেরায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে চার তৃণমূল নেতাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শটার পিস্তল এবং বেশ কয়েক রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৬-এর মে মাসের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে মেদিনীপুরের মাটি আবার গরম হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, “বিগত দিনে ক্ষমতার অহংকারে যাঁরা বিরোধীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন, তাঁরা এখনও ভাবছেন পুরনো দিনই চলছে। কিন্তু তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন যে রাজ্যে এখন শুভেন্দু অধিকারীর সরকার চলছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা স্তরের এক নেতা এই ঘটনাকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নতুন সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ধৃত চারজনকে আজই তমলুক আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। এই ঘটনার পর নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য পাঁশকুড়া ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Editor001
  • Editor001