৭ দিনে রিপোর্ট চাই! ভোটে হারা প্রার্থীদের তলব করে কেন এমন অদ্ভুত জেদ ধরলেন মমতা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না মেলায় এবার দলের অন্দরে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে পরাজিত প্রার্থীদের কাছ থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দলের অন্দরে আত্মতুষ্টি ও নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে এক অভূতপূর্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেই পার্টি অফিস রঙ করার কাজে হাত দেবেন, তাও দলের সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে।
নির্বাচনী বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এবং হারের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে দলের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে যে সমস্ত আসনে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও দলের প্রার্থীরা হেরে গেছেন, সেখানকার সাংগঠনিক দুর্বলতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না শীর্ষ নেতৃত্ব।
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “কে কোথায় কাজ করেছেন আর কে ঘরে বসে ছিলেন, তার সব হিসাব নেওয়া হবে।” ভোটে দলের পরাজয়ের পেছনে কোনো ভেতরের অন্তর্ঘাত বা নিষ্ক্রিয়তা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পরাজিত প্রার্থীদের নিজেদের বুথভিত্তিক পারফরম্যান্সের বিস্তারিত খতিয়ানসহ এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
তবে সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে মমতার ‘পার্টি অফিস রঙ করা’ সংক্রান্ত মন্তব্যটি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে দলের নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং অলস বসে থাকা নেতাদের একটি কড়া বার্তা দিতে চেয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দলের প্রয়োজনে একদম সাধারণ কর্মীর মতো মাটি কামড়ে কাজ করতেও তিনি পিছপা হবেন না।
ভোটের ফল প্রকাশের পর যেখানে বিরোধী শিবির রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজে রয়েছে, সেখানে তৃণমূল নেত্রীর এই ঝটিকা পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। ৭ দিন পর রিপোর্ট জমা পড়ার পর দলে বড়সড় রদবদল বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে। এখন দেখার, তৃণমূল সুপ্রিমোর এই কড়া দাওয়াইয়ের পর দলের অন্দরে থাকা ক্ষোভ ও সাংগঠনিক দুর্বলতা কতটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।