রেডার জুড়ে শুধু ঝড়ের সংকেত! ৪ জেলায় জারি অতি ভারী বৃষ্টির হাই অ্যালার্ট, আপনার এলাকাও কি তালিকায়?

মে মাসের চড়া রোদে যখন হাঁসফাঁস করছে দক্ষিণবঙ্গ, ঠিক তখনই হাওয়া অফিসের তরফ থেকে এল এক মস্ত বড় আপডেট। আর কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু তথা বর্ষার। আর তার আগেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রাক-বর্ষার মেঘ জমতে শুরু করেছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা কবে এই চরম দাবদাহ থেকে মুক্তি পাবেন, তা নিয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বর্ষার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন পাঁচ জেলা— দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু অংশে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টির (২০০ মিলিমিটারের বেশি) আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ি ধস এবং নিচু এলাকায় জল জমার সম্ভাবনা থাকায় ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।
তাহলে দক্ষিণবঙ্গে কবে নামবে স্বস্তির বৃষ্টি?
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির জন্য হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অবশ্য এখনই খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে বর্ষার পদধ্বনি শোনা গেলেও দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকতে সাধারণত আরও কিছুটা সময় লাগে। তবে মৌসুমী বায়ুর আগমনের আগে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হবে।
এর ফলে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা এবং মেদিনীপুরে কালবৈশাখীর মতো ক্ষণস্থায়ী ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে। তবে এই বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, স্থায়ীভাবে গরম কমবে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার চাদর পুরোপুরি মেলার পরেই। আপাতত উত্তরবঙ্গের জন্য সতর্কতা জারি থাকলেও, দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে আরও কিছুদিন ঘর্মাক্ত ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া সহ্য করতে হবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা।