রেকর্ড ব্রেক সেল! যুদ্ধাতঙ্কের মাঝেই হু হু করে বাড়ছে গাড়ির চাহিদা, শোরুমে ভিড় সামলাতে হিমশিম ডিলাররা

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ, জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দামের আশঙ্কা— সব প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন অর্থবর্ষে ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে আক্ষরিক অর্থেই ‘সুনামি’ এল। সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে ভারতের অটো বাজারে যে পরিমাণ গাড়ি বিক্রি হয়েছে, তা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
এক লাফে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি!
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলে ডিলারদের কাছে ৪,৩৭,৩১২টি যাত্রীবাহী গাড়ি পাঠানো হয়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের এপ্রিলের তুলনায় (৩,৪৮,৮৪৭ ইউনিট) এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৫.৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছর জিএসটি (GST) হার কমানোর ফলে বাজারে যে জোয়ার এসেছিল, তার রেশ এখনও তুঙ্গে। ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন খরচ বাড়লেও আমজনতার গাড়ি কেনার উৎসাহে ভাঁটা পড়েনি।
রাজত্ব করছে SUV, ছোট গাড়িতেও চমক
ভারতীয়দের পছন্দের তালিকায় এখন সবার উপরে ‘ইউটিলিটি ভেহিকল’ বা এসইউভি (SUV)।
SUV সেগমেন্ট: এই বিভাগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১.৫ শতাংশ। মোট ২,৪৪,২৮০টি ইউটিলিটি যান গত মাসে শোরুমে পৌঁছেছে।
প্যাসেঞ্জার কার: ছোট বা যাত্রীবাহী গাড়ির চাহিদাও চোখে পড়ার মতো। গত বছরের তুলনায় এই সেগমেন্টে এক ধাক্কায় ৩২.৭ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে।
ভ্যান: ভ্যান বিক্রির ক্ষেত্রেও ১৪.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে সিয়াম।
দুই ও তিন চাকার বাজারেও তুফান
কেবল চার চাকার গাড়ি নয়, বাইক এবং স্কুটারের বাজারেও রেকর্ড ব্যবসা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এপ্রিলে দুই চাকার যানের বিক্রি ২৮.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮,৭২,৬৯১ ইউনিটে। মোটরসাইকেল এবং স্কুটার উভয় ক্ষেত্রেই ৩০ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। একই চিত্র ধরা পড়েছে অটো বা তিন চাকার যানের ক্ষেত্রেও, সেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩২.৮ শতাংশ।
মোট বিক্রি ২৩ লাখ ছাড়াল!
সব ধরণের যানবাহন মিলিয়ে গত মাসে মোট পাইকারি বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২৩,১৬,৬৭১ ইউনিটে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৭.৯ শতাংশ বেশি। সিয়ামের মহাপরিচালক রাজেশ মেনন জানিয়েছেন, “২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষের দিকে যে গতি আমরা দেখেছিলাম, নতুন বছরের শুরুতেও তা অব্যাহত। তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে খরচ এবং লজিস্টিক সংক্রান্ত কিছু উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।”
সব মিলিয়ে, মুদ্রাস্ফীতি আর যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেও ভারতের সাধারণ মানুষ যে নতুন সম্পদ কেনায় পিছিয়ে নেই, এই পরিসংখ্যান তারই জোরালো প্রমাণ। অটোমোবাইল সংস্থাগুলোর এই বাম্পার লাভ নতুন অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।