ভোট মিটতেই বড় পদক্ষেপ মমতার, হাইকোর্টে তুঙ্গে তরজা! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

ভোট মিটতেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। এজলাসে ঢুকলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তবে রাজনেতা হিসেবে নয়— পুরোদস্তুর আইনজীবীর পোশাকে। কালো কোট আর গাউন গায়ে দিয়ে প্রথাগত পোশাকেই আদালত কক্ষে উপস্থিত হন তিনি।

আদালতে কেন মমতা?
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এদিন আদালতে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র)। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি ছিল। মমতার পাশাপাশি এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

পাল্টা তোপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আদালতে যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেলেও, বিষয়টিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার হাতে অনেক কাজ আছে। অযথা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় আমার নেই। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এসব নিয়ে আমি ভাবিত নই।”

মামলার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়ে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করে তৃণমূল। নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গণ্ডগোলের যে অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রেক্ষিতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে দল। এর আগে ভোটের আবহে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার আইনি লড়াইয়ে সরাসরি কোর্ট রুমে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন পরবর্তী এই আইনি যুদ্ধের জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।