হাইকোর্টে হাত জোড় করে কাঁদলেন মমতা! ‘বাংলাকে ইউপি হতে দেব না’, বুলডোজার রুখতে নজিরবিহীন সওয়াল মমতার

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে আজ এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখল রাজ্যবাসী। রাজ্যের নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে ‘বুলডোজার’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আর সেই মামলার সওয়ালে আজ এক সারিতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হতেই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। এজলাস ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

‘বুলডোজার কালচার’ রুখতে সরব বিকাশ-কল্যাণ
মামলার সওয়াল করতে উঠে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলায় এই বুলডোজার কালচার আগে ছিল না। হকার জোনগুলোতেও বুলডোজার চালানো হচ্ছে। মানুষের জীবন ও জীবিকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। যেখানে যা ভাঙা হয়েছে, তা অবিলম্বে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে।”

অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আদালতের রায় ছাড়া কোনওভাবেই এই ‘অপারেশন’ চালানো যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, হগ মার্কেট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকশ তৃণমূল পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। আদালতে তিনি দাবি করেন, ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে ১০ জন খুন হয়েছেন এবং বহু মানুষ ঘরছাড়া।

এজলাসে সওয়াল মমতার: ‘মানুষকে বাঁচান’
এদিন সওয়াল-জবাবের এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮৫ সালে তাঁর বার এনরোলমেন্টের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এটা পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে বুলডোজার চালানো যায় না।”

এলাকায় এলাকায় সংখ্যালঘু এবং মহিলাদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি কিছু জখম হওয়া মানুষের ছবি বিচারপতির সামনে তুলে ধরেন। মমতা অভিযোগ করেন, “পুলিশ এফআইআর নিচ্ছে না। আমার পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কে বাজার পর্যন্ত যেতে পারছেন না। হাত জোড় করে বলছি, মানুষকে দয়া করে রক্ষা করুন।”

অভিযোগ উড়িয়ে পালটা সওয়াল সরকারি আইনজীবীদের
তৃণমূলের তোলা এই ভায়োলেন্সের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “এই অভিযোগের সত্যতা আগে খতিয়ে দেখা দরকার। কোনো নির্দেশ দেওয়ার আগে দেখা হোক আদৌ এই মামলা জনস্বার্থ কি না।”

কলকাতা পুলিশের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদীও আদালতকে জানান, “মিডিয়াতেও এত হিংসার খবর নেই যা এখানে দাবি করা হচ্ছে। শুধু ছবি দিলে হবে না, প্রমাণ চাই। পুলিশ নিষ্ক্রিয় নয়, থানায় তো কোনও অভিযোগ আসেনি।” এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা আক্রমণ করে বলেন, “সব তথ্য দেওয়া আছে, পুলিশ কি ঘুমাচ্ছে?” তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে তদন্তের দাবি জানান।

উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।