আইনজীবীর পোশাকে সওয়াল সারলেন মমতা, আদালত চত্বরেই চরম বিক্ষোভ! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

কলকাতা হাইকোর্টের অলিন্দে আজ যা ঘটল, তাকে নজিরবিহীন বললেও বোধহয় কম বলা হয়। ভোট-পরবর্তী মামলায় আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করতে এসেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শুনানি শেষে আদালত কক্ষ থেকে বেরোতেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যারিকেড ভেঙে মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন উপস্থিত আইনজীবীদের একাংশ ও সাধারণ মানুষ।
আদালত চত্বরে ধুন্ধুমার
এদিন কালো কোট গায়ে পেশাদার আইনজীবীর ভূমিকায় ধরা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। দীর্ঘক্ষণ সওয়াল-জবাব শেষে যখন তিনি এজলাস থেকে নিচে নামছিলেন, তখনই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা তাঁকে ঘিরে রাখলেও ভিড়ের মধ্য থেকে ধেয়ে আসতে থাকে একের পর এক কটাক্ষ। বারংবার ‘চোর-চোর’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে হাইকোর্ট চত্বর।
এই চরম বিশৃঙ্খলার মুখে কার্যত থমকে যান মমতা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি এবং তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মমতা প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “দেখুন বাইরের অবস্থাটা কী! এখান থেকে বেরনোই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রধান বিচারপতি তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্যান্য আইনজীবীদের অনুরোধ জানালেও লাভ হয়নি বিশেষ।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি বনাম জনরোষ
নিচতলার এজলাস থেকে আদালতের মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছাতে কালঘাম ছুটে যায় নিরাপত্তা আধিকারিক ও তৃণমূলের লিগাল সেলের সদস্যদের। ভিড় ঠেলে মমতাকে গাড়িতে তোলা পর্যন্ত রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় পুলিশকে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রচুর মানুষ এবং আইনজীবীদের জমায়েত থেকে সমানে স্লোগান তোলা হচ্ছে। একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ তৈরি হয়।
শুভেন্দু অধিকারীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া
রাজ্যের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হাইকোর্টে মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তবে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। নিজের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “আমার হাতে অনেক কাজ। এই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো সময় আমার নেই। আর এগুলো নিয়ে আমি ভাবিও না।”
ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার শুনানিতে আজ মমতার উপস্থিতি যতটা আইনি গুরুত্বের ছিল, বাইরের এই বিক্ষোভ তার চেয়েও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এবং একে পরিকল্পিত হেনস্থা বলে দাবি করা হয়েছে।