স্বামীকে ‘আনফলো’ করে মাঝরাতে কার সঙ্গে ডিনারে মৌনী? বিচ্ছেদের আগুনের মাঝেই কালো পোশাকে ভাইরাল বঙ্গ তনয়া!

টিনসেল টাউনের আকাশে কি তবে বিচ্ছেদের ঘনঘটা? গত কয়েকদিন ধরেই বিনোদন জগতের অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে বঙ্গ তনয়া মৌনী রায়ের (Mouni Roy) ঘর ভাঙার খবর। দুবাইয়ের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার স্বামী সুরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে মৌনীর দূরত্ব এখন আকাশছোঁয়া— এই জল্পনা যখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই মুম্বইয়ের রাস্তায় এক বিশেষ মানুষের সঙ্গে ডিনার ডেটে দেখা মিলল অভিনেত্রীর।

রহস্যময় ডিনার ও মৌনীর মৌনতা
বুধবার রাতে মায়াবী মুম্বইয়ের এক অভিজাত রেস্তোরাঁর বাইরে পাপারাৎজিদের ক্যামেরায় লেন্সবন্দি হন মৌনী। পরনে ছিল একটি সাহসী কালো বডিকন শর্ট ড্রেস, যার নিচের অংশটি ছিল স্বচ্ছ বা ‘শিয়ার’ কাপড়ের। বিচ্ছেদের জল্পনা নিয়ে যখন গোটা নেটপাড়া উত্তাল, তখন মৌনীর চোখেমুখে ছিল এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা। ডিনার সেরে বেরোনোর সময় আলোকচিত্রীরা তাঁকে ঘিরে ধরলেও কোনো কথা না বলে দ্রুত পায়ে নিজের গাড়িতে গিয়ে বসেন তিনি।

সঙ্গী কে সেই ‘বিশেষ মানুষ’?
মৌনীর এই ডিনার ডেট নিয়ে জল্পনা বাড়লেও আসলে সঙ্গী ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রিয় বান্ধবী রূপালী কাদিয়ান। এদিন ছিল রূপালীর জন্মদিন, আর সেই বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপন করতেই বন্ধুকে নিয়ে বের হয়েছিলেন মৌনী। সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপালীকে নিজের ‘বোন’ এবং ‘ডাইনি’ বলে মজা করে সম্বোধন করে একটি আবেগঘন পোস্টও করেন অভিনেত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, “আমার বোন, রোদ হোক বা ঝড়— তুমি সবসময় আমার পাশে আছো।”

ডিজিটাল দূরত্বই কি বিচ্ছেদের প্রমাণ?
অগ্নি ছাড়া ধোঁয়া কি আর ওড়ে? নেটিজেনরা লক্ষ্য করেছেন, মৌনী এবং সুরজ একে অপরকে ইনস্টাগ্রামে ‘আনফলো’ করেছেন। আরও রহস্যজনক বিষয় হলো, বিচ্ছেদ জল্পনা শুরু হতেই সুরজ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি পর্যন্ত ডিলিট করে দিয়েছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে গোয়ার সমুদ্রসৈকতে মালায়ালি ও বাঙালি রীতিতে যে রূপকথার বিয়ে হয়েছিল, তা মাত্র চার বছরেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

মৌনীর আর্তি ও ঘনীভূত রহস্য
অবশ্য চুপ করে বসে নেই মৌনীও। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি বিনীতভাবে জানিয়েছেন, “সব সংবাদমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে কোনো ভুল তথ্য ছড়াবেন না। আমাদের ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তাকে একটু গুরুত্ব দিন।” কিন্তু একদিকে স্বামীর প্রোফাইল উধাও হয়ে যাওয়া, আর অন্যদিকে মৌনীর এই রহস্যময় নীরবতা— সব মিলিয়ে বিনোদন জগতের সবথেকে বড় অমীমাংসিত রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘বিরুষ্কা’র পর এই প্রিয় জুটির দাম্পত্য জীবন।