রাজ্যে পশুবলি নিয়ে জারি হলো বিরাট নিষেধাজ্ঞা! নতুন নিয়ম না মানলেই সোজা জেল?

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের পরেই প্রশাসনিক সংস্কারে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে নতুন বিজেপি সরকার। এবার রাজ্যের জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পশুবলি এবং গবাদি পশু হত্যার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর নিয়ম জারি করল নবান্ন। বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশুবলি দেওয়া এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
১৪ বছরের আগে বলি নয়!
সরকারি নির্দেশিকায় গবাদি পশু— বিশেষ করে গরু, বলদ, মহিষ ও বাছুরের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
-
কোনো পশুকে বলির যোগ্য হিসেবে গণ্য করতে হলে তার বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে।
-
বার্ধক্য, গুরুতর আঘাত বা দুরারোগ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারানো পশুর ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি মিলতে পারে।
-
বলির আগে সরকারি অনুমোদিত পশুচিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছ থেকে শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
যত্রতত্র কোপ দিলেই হাজতবাস
এখন থেকে আর রাস্তার ধারে বা প্রকাশ্যে পশুবলি দেওয়া যাবে না। সরকারি নির্দেশিকা বলছে, শংসাপত্র থাকলেও শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি যদি শংসাপত্র পেতে ব্যর্থ হন, তবে ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন তিনি। তবে তদন্তের সময় সরকারি আধিকারিক বা পশুচিকিৎসকদের কাজে বাধা দিলে কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি
কলকাতা হাইকোর্টের পুরনো নির্দেশ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’-কে ঢেলে সাজিয়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। নির্দেশিকা অমান্য করলে অপরাধীকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কমানো এবং জনপরিসরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই জেলাগুলোতে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিল— নিয়ম না মানলে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।