৫ টাকার ডিম-ভাত অতীত? এবার মা ক্যান্টিনে মিলবে মাছ-ভাত! বিজেপি সরকারের মাস্টারস্ট্রোকে তোলপাড় রাজ্য

বাংলার রাজনীতিতে এবার নতুন সমীকরণ— ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। লোকসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল ‘মাছ-রাজনীতি’। দাবি করা হয়েছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির পাতে মাছ-মাংস জুটবে না। কিন্তু জয়ের পর ভোলবদল! ক্ষমতা দখল করেই গেরুয়া শিবির বুঝিয়ে দিচ্ছে, বাঙালির প্রিয় মাছ কেড়ে নেওয়া তো দূর, বরং ৫ টাকাতেই আমজনতার পাতে মাছ-ভাত পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর নতুন সরকার।

ডিমের বদলে এবার মাছ-ভাত!

রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার এবার ‘মা ক্যান্টিন’-এর খোলনলচে বদলে ফেলার পরিকল্পনা করছে। সূত্রের খবর, এতদিন যে ৫ টাকায় ডিম-ভাত পাওয়া যেত, সেখানে এবার মাছ-ভাত রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। এক প্রবীণ বিজেপি বিধায়কের কথায়, “আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। ডিম নয়, বাঙালির পাতে মাছই সেরা। তবে প্রকল্পের নাম বদলানোর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।”

বুধবারের ‘মাছ-ভাত’ মধ্যাহ্নভোজেই ইঙ্গিত

উল্লেখ্য, বুধবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ অনুষ্ঠানের পর মধ্যাহ্নভোজে এলাহি মাছ-ভাতের আয়োজন করেছিল বিজেপি সরকার। শুধু তাই নয়, ক্ষমতায় আসার পর খাস কলকাতায় মাছ উৎসবও করেছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা বাঙালির আবেগ ও খাদ্যাভ্যাসের বিরোধী নয়।

বন্ধ হচ্ছে না মা ক্যান্টিন, হচ্ছে ভোলবদল

ক্ষমতা বদলের পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্প কি তবে বন্ধ হয়ে যাবে? গৃহহীন ও গরিব মানুষদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এই প্রকল্পটি নিয়ে নতুন সরকার আগেই জানিয়েছিল, কোনো জনকল্যাণমুখী প্রকল্পই বন্ধ হবে না। উল্টে মেনুতে আমূল পরিবর্তন এনে একে আরও জনপ্রিয় করতে চাইছে বিজেপি।

তামিলনাড়ুর ‘আম্মা’ থেকে বাংলার ‘মা’

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শুরু হয়েছিল ‘মা ক্যান্টিন’। তামিলনাড়ুর জয়ললিতা সরকারের ‘আম্মা ক্যান্টিন’-এর ধাঁচেই রাজ্যে স্বল্পমূল্যে খাবারের এই দিশা দেখানো হয়েছিল। করোনাকালে সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে এই ক্যান্টিনগুলি বিরাট ভূমিকা নিয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২৪৯টি এমন ক্যান্টিন রয়েছে।

৫ টাকার হিসেবে মিলবে কি মাছ?

প্রশ্ন উঠছে, ৫ টাকায় মাছ-ভাত দেওয়া কি আদৌ সম্ভব? সরকারি সূত্রে খবর, কৃষি বিপণন দফতরকে ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত এই ক্যান্টিনগুলিতে ‘সুফল বাংলা’ থেকে সস্তায় সবজি এবং সরকারিভাবে বিনামূল্যে চাল সরবরাহ করা হয়। এবার মাছের জোগানেও বিশেষ ভরতুকি দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

ভোটের ফলপ্রকাশের পর অনেক জায়গায় ক্যান্টিনগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও, বিজেপি প্রার্থীরা আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত সেগুলি আবার চালু হবে। এবার সেখানে ডিমের বদলে মাছের স্বাদ পাবেন আমজনতা, এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে নবান্ন সূত্রে। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য এই খবর এখন টলিপাড়া থেকে পাড়ার মোড়— সর্বত্র হট টপিক!