“প্রথম ১০-এ ৬৪ জন”-উচ্চমাধ্যমিকে নরেন্দ্রপুর ও পুরুলিয়া মিশনের তাণ্ডব! দেখে নিন মেধা তালিকা

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর কার্যত একছত্র আধিপত্য দেখাল রামকৃষ্ণ মিশন। বিশেষ করে নরেন্দ্রপুর ও পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের সাফল্যে কার্যত ঢাকা পড়ে গেছে বাকি স্কুলগুলো। সংসদ প্রকাশিত মেধা তালিকায় প্রথম ১০-এর মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন ৬৪ জন শিক্ষার্থী। তবে এই তালিকায় ছাত্রদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো; ৫৬ জন ছাত্রের বিপরীতে প্রথম দশে জায়গা পেয়েছেন মাত্র ৮ জন ছাত্রী।

প্রথম স্থানে নরেন্দ্রপুরের আদৃত

এবারের উচ্চমাধ্যমিকে ৪৯৬ নম্বর পেয়ে মুকুটে সেরার শিরোপা পরেছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন রেসিডেন্সিয়াল বিদ্যালয়ের ছাত্র আদৃত পাল। ৯৯.২ শতাংশ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম হয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানেও মিশনের জয়জয়কার

মেধা তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানেও রয়েছে রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের আধিপত্য।

  • দ্বিতীয় (৪৯৫ নম্বর): জিষ্ণু কুন্ডু (রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, পুরুলিয়া), ঋতব্রত নাথ (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন) এবং ঐতিহ্য পাঁচাল (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন)।

  • তৃতীয় (৪৯৪ নম্বর): দেবপ্রিয় মাঝি (রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, পুরুলিয়া), সৌম্য মণ্ডল (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন), প্রীতম মণ্ডল (রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, পুরুলিয়া) এবং সিউড়ির শুভায়ন মণ্ডল।

চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে কারা?

চতুর্থ স্থানে ৪৯৩ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছেন বড়দঙ্গল আরএন ইনস্টিটিউশনের অরিত্র কুমার চক্রবর্তী এবং ক্যালকাটা মাদ্রাসার গোলাম ফয়সল। তাঁদের সঙ্গে এই তালিকায় রয়েছেন নরেন্দ্রপুরের অক্রজ্যোতি ধর এবং কোচবিহার রামগোলা হাইস্কুলের চন্দ্রচূড় সেন।

পঞ্চম স্থানে (৪৯২ নম্বর) প্রথমবারের মতো কোনো ছাত্রীর দেখা মিলেছে। শ্রীরামপুর রমেশচন্দ্র গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী মেঘা মজুমদার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর সঙ্গে এই স্থানে রয়েছেন প্রীয়াংশু মুখোপাধ্যায় (নরেন্দ্রপুর), স্বর্নাভ খাটুয়া (তমলুক হাইস্কুল), আলেখ্য মাইতি (নরেন্দ্রপুর) এবং সৌমিক দত্ত (পুরুলিয়া মিশন)।

সামগ্রিক ফলাফল একনজরে

সংসদ সূত্রে খবর, এ বছর মোট ৫,৭১,৩৫৫ জন পরীক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। রাজ্যের সামগ্রিক পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.২৩ শতাংশ। একদিকে যেমন মিশনের ছাত্ররা মেধা তালিকায় ইতিহাস গড়েছে, অন্যদিকে ৯১ শতাংশের বেশি পরীক্ষার্থীর পাশ করার ঘটনাটি রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কৃতিদের এই সাফল্যে শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছে গোটা বাংলা।