রাজকীয় স্বাদের জাদুকর! আমের রাজা তো অনেক দেখেছেন, কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের এই ‘বেনিশান’-এর কথা জানেন কি?

জৈষ্ঠ্যের কাঠফাটা রোদ আর আমের সুগন্ধ—বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম সেরা আকর্ষণ। বাজার এখন আমে সয়লাব, কিন্তু তার ভিড়েও নিজের আভিজাত্য আর স্বাদে অনন্য জায়গা করে নিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের একটি বিশেষ জাত। যাকে কেউ ডাকেন ‘বাগানাপল্লী’, কেউ বা চেনেন ‘সফেদা’ বা ‘বেনিশান’ নামে। কিন্তু কেন এই আমটি আমপ্রেমীদের কাছে ‘সুপারস্টার’? আসুন জেনে নিই এর পেছনের কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য।
নবাবদের বাগান থেকে আপনার পাতে
বাগানাপল্লী আমের ইতিহাস আজ থেকে প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার বাগানাপল্লী শহরে এই আমের আদি নিবাস। লোকমুখে প্রচলিত যে, এই আম ছিল তৎকালীন নবাবদের অত্যন্ত প্রিয়। তাঁদের রাজকীয় বাগানে পরম যত্নে এর চাষ করা হতো। নবাবদের পছন্দের সেই আভিজাত্য আজও এই আমের প্রতিটি কোষে মিশে আছে।
কেন এটি অনন্য?
কৃষি বিজ্ঞানী ডঃ দীপক মেহন্দি রতা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিকভাবে এই আমের চাহিদা আকাশছোঁয়া। এর জনপ্রিয়তার কারণগুলো হলো:
-
আকর্ষণীয় চেহারা: সোনালী হলুদ রঙের এই আমটি আকারে বেশ বড় এবং ডিম্বাকৃতি।
-
আঁশহীন শাঁস: এই আমের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর শাঁস। অত্যন্ত নরম এবং কোনো আঁশ নেই, ফলে এটি খাওয়া যেমন সহজ, তেমনই তৃপ্তিদায়ক।
-
পাতলা খোসা: পাতলা মসৃণ ত্বক এবং ফ্যাকাশে হলুদ-সাদা শাঁসের এই আম দেখতেও খুব সুন্দর।
-
স্বাদের ভারসাম্য: কেবল মিষ্টি নয়, এতে মিষ্টতা ও হালকা টকভাবের এক অপূর্ব ভারসাম্য রয়েছে।
রপ্তানি দুনিয়ার ‘পোস্টার বয়’
বাগানাপল্লী আম কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও সমান জনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ হলো এর দীর্ঘ ‘শেলফ লাইফ’। অর্থাৎ গাছ থেকে নামানোর পর অনেকদিন পর্যন্ত এটি ভালো থাকে, সহজে পচে না। এই বিশেষ গুণের কারণেই এটি বিদেশের বাজারে বিপুল পরিমাণে রপ্তানি করা হয়।
চাষিদের জন্য ‘লক্ষ্মীলাভ’
অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় এই আমের ফলন সবথেকে বেশি। বাজারে এর চাহিদা তুঙ্গে থাকায় চাষিরা এই আম চাষ করে ভালো মুনাফা অর্জন করছেন। বর্তমানে এটি ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক আমের জাত হিসেবে পরিচিত।
আমের এই মৌসুমে আপনি যদি এখনো বাগানাপল্লীর স্বাদ না নিয়ে থাকেন, তবে আজই বাজারে খোঁজ করুন। নবাবী আমে কামড় দিয়ে দেখুন, এর আভিজাত্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই!