চুপচাপ বদলে গেল সময়! নেতাদের দাপট ধুলোয় মিশিয়ে হাতকড়া পরাল পুলিশ, বাংলার জেলায় জেলায় শুরু হলো বড় সাফাই অভিযান

সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই বড়সড় চমক। দলীয় পরিচয় যে আর রক্ষা কবচ নয়, তা বুঝিয়ে দিয়ে এবার ‘তোলাবাজি’র অভিযোগে নিজ দলেরই একাধিক নেতাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিল প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা। নবান্নর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অভিযোগের ভিত্তিতে মাঝরাতেই অভিযান: দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো, নির্মাণকাজে বাধা এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তোলাবাজি করার অভিযোগ জমা পড়ছিল। সূত্রের খবর, খোদ নবান্ন থেকে জেলা পুলিশ সুপারদের কাছে নির্দেশ যায় যে, অভিযোগের সত্যতা পেলেই যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয় পুলিশের মেগা অপারেশন। পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলির বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫ জন তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দলের কড়া অবস্থান: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতেই এবার নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই ‘অ্যাকশন’ মোড চালু করেছে সরকার। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে কাউকে রেয়াত করা হবে না। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, “আইন সবার জন্য সমান। কেউ যদি তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটে, তবে পুলিশ তার কাজ করবেই।”

জনমানসে প্রতিক্রিয়া: রাতারাতি তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই পুলিশের এই সক্রিয়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, এই ধরণের কড়া পদক্ষেপ নিয়মিত চললে তোলাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ হবে। তবে বিরোধী শিবির একে ‘লোকদেখানো নাটক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

সাফাই অভিযান কি চলবে? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নেতাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করে এই তোলাবাজির শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা চলছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনে আরও কিছু প্রভাবশালী নাম পুলিশের জালে আসতে পারে। আপাতত তোলাবাজি রুখতে সরকারের এই কঠোর অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

ডেইলহান্ট (DailyHunt) বিশেষ প্রতিবেদন।