আলু-যুদ্ধে ইতি! মমতার বড় ঘোষণায় স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা, কিন্তু মধ্যবিত্তের কপালে কি চিন্তার ভাঁজ?

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা টানাপড়েনের অবসান। ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ওপর জারি থাকা অলিখিত বিধিনিষেধ অবশেষে তুলে নিল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিনরাজ্যে আলু নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আর কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হবে না। একই সঙ্গে সীমানায় পুলিশি তল্লাশি এবং হয়রানি বন্ধ করারও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার?

রাজ্যে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জোগান স্বাভাবিক নিশ্চিত করতে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোয় কড়াকড়ি শুরু করেছিল প্রশাসন। এর প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন আলু ব্যবসায়ীরা। ভিনরাজ্যে রফতানি বন্ধ হওয়ায় হিমঘর মালিক এবং কৃষকরা লোকসানের আশঙ্কায় কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন। বাজারে আলুর জোগান কমে গিয়ে হিতে বিপরীত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এবার পিছু হঠল সরকার।

পুলিশি হয়রানি রুখতে কড়া বার্তা

ব্যবসায়ীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, লরি বোঝাই আলু সীমানা পার করার সময় পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা অপ্রয়োজনীয় হয়রানি করছেন। এদিন সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, বৈধ নথিপত্র থাকলে কোনো লরি আটকানো যাবে না। প্রশাসনিক এই নমনীয়তায় খুশি ব্যবসায়ীরা। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

এবার কি তবে দাম বাড়বে?

এই সিদ্ধান্তের পরই সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—তবে কি এবার আলুর দাম আরও বাড়বে? বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ভিনরাজ্যে রফতানি শুরু হলে স্থানীয় বাজারে জোগানে টান পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে খুচরো বাজারে। তবে সরকারের দাবি, রাজ্যের জন্য পর্যাপ্ত আলু মজুত রেখেই রফতানির ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাস্ক ফোর্সের নজরদারি আগের মতোই জারি থাকবে।

আপাতত আলুর জট কাটলেও আগামী কয়েক দিনে জ্যোতি বা চন্দ্রমুখী আলুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে কি না, সেটাই এখন দেখার। আলুর বাজারদরের প্রতিদিনের আপডেট পেতে নজর রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায়।