মেট্রো জট কাটালেন অগ্নিমিত্রা! দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে শুরু হচ্ছে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ, যান নিয়ন্ত্রণে বড় আপডেট

বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রোর (Kolkata Metro) জট অবশেষে কাটল। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আর আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে এবার দ্রুত গতিতে এগোতে চলেছে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর করিডরের কাজ। রাজ্যের নতুন সরকারে পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের দায়িত্ব নিয়েই চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।

অগ্নিমিত্রার আশ্বাস ও পুলিশের সবুজ সংকেত
দফতরের দায়িত্ব হাতে নিয়েই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল প্রতিশ্রুতি দেন, খুব দ্রুত চিংড়িঘাটায় মেট্রোর স্তম্ভ তৈরির কাজ শুরু হবে। এতদিন মূলত যান নিয়ন্ত্রণের অনুমতি নিয়ে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে রেলের টানাপোড়েন চলছিল। মন্ত্রী জানান, কলকাতা পুলিশ মে মাসের দুটি সপ্তাহান্তে যান নিয়ন্ত্রণে রাজি হয়েছে। আগামী ১৫ মে থেকেই এই বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে।

কেন আটকে ছিল কাজ?
এর আগে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব একাধিকবার জানিয়েছিলেন, পূর্বতন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণের কাজে বাধা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের কাজ নিয়ে জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। বাইপাসের ওপর যানবাহনের প্রচণ্ড চাপের দোহাই দিয়ে পুলিশ যান নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দিচ্ছিল না। তবে রাজ্যে সরকার বদলের সাথে সাথেই সেই প্রশাসনিক জট এবার মুক্ত হলো।

যান নিয়ন্ত্রণের সূচি
জানা গিয়েছে, নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর করিডরের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ সারতে আগামী ১৫ মে থেকে ১৮ মে এবং ২২ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত চিংড়িঘাটা সংলগ্ন এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সপ্তাহান্তের এই দিনগুলিতে ট্রাফিক ঘুরিয়ে দিয়ে যুদ্ধেরকালীন তৎপরতায় মেট্রোর স্তম্ভ বা পিলারের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

উন্নয়নে জোর মন্ত্রীর
নতুন দফতরের দায়িত্ব নিয়ে অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত বড় দফতর। আমাদের সামনে অনেক কাজ। এই মন্ত্রকের অধীনে ১২১টি মিউনিসিপ্যালিটি এবং ৭টি কর্পোরেশন রয়েছে।” তিনি আরও জানান, শুধু মেট্রো নয়, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং গঙ্গার সৌন্দর্যায়নের মতো প্রকল্পগুলিকেও তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।