আবার কি ফিরছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ও লকডাউন-বিধি? ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে দেশবাসীর কাছে বড় আর্জি মোদির!

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি। আর তার সরাসরি আঁচ এসে পড়ছে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে। যুদ্ধের এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এবার সরাসরি দেশবাসীর দরবারে আবেদন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আমদানির খরচ কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করতে তিনি সাধারণ মানুষকে কোভিডের সময়ের কিছু অভ্যাস পুনরায় ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
কেন কোভিডের অভ্যাসে ফেরার ডাক?
কোভিড মহামারির সময় লকডাউন এবং বাধ্যতামূলক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর ফলে যাতায়াত কমে গিয়েছিল। ফলে জ্বালানির চাহিদাও নেমে এসেছিল তলানিতে। ২০২০ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, যাতায়াত কম হওয়ায় ভারতের তেল আমদানির বিল এক ধাক্কায় কয়েক বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের রাজকোষ বাঁচাতে সেই একই সাশ্রয়ের পথ খুঁজছে কেন্দ্র।
মোদির বিশেষ ৫টি পরামর্শ:
বিদেশ সফর বর্জন: প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আবেদন।
ওয়ার্ক ফ্রম হোম: কর্পোরেট এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সম্ভব হলে বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা করতে উৎসাহ প্রদান।
গণপরিবহণ ব্যবহার: ব্যক্তিগত গাড়ি বের না করে বাস বা মেট্রোর মতো গণপরিবহণ ব্যবহারের পরামর্শ।
জ্বালানি সাশ্রয়: অযথা গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে তেলের অপচয় বন্ধ করা।
সোনা কেনায় লাগাম: আমদানির খরচ কমাতে সোনা কেনা কমানোর আবেদনও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের অর্থনীতির ওপর কেন চাপ বাড়ছে?
ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতির ওপর। বর্তমানে ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। এমতাবস্থায় তেলের আমদানি বিল কমাতে পারলে টাকার ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের অংক
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ভারতের মতো জনবহুল দেশে যদি বড় শহরগুলোতে আংশিকভাবেও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু হয় এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমে, তবে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ লিটার জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। সামগ্রিক ব্যবহারে ৫ থেকে ১০ শতাংশ রাশ টানতে পারলেও বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো সম্ভব। ইতিমদ্ধেই কেন্দ্র সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে যাতে অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো যায়।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের লক্ষ্য স্পষ্ট— যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যেন ভারতীয় অর্থনীতিতে ধস না নামে। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট পদক্ষেপই এখন দেশের বড় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় হাতিয়ার হতে পারে।