“যে যেখানে আছেন, চলে আসুন!” একলা চলার নীতি ছেড়ে কেন বিরোধী ঐক্যের জন্য মরিয়া মমতা? জল্পনা তুঙ্গে

বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ কি ফের একবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে চলেছে? মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ এবং গেরুয়া শিবিরের উত্থানের আবহে এবার এক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা সরিয়ে রেখে এবার বাম এবং কংগ্রেস-সহ সমস্ত বিরোধী শক্তিকে একজোট হওয়ার খোলা আহ্বান জানালেন তিনি।

বিরোধী ঐক্যের ডাক: নতুন কোনো সমীকরণ? শনিবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে অত্যন্ত আবেগঘন ও কড়া সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দেশ ও রাজ্যের স্বার্থে আমাদের ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার সময় এসেছে। আমি স্পষ্ট বলছি, যে যেখানে আছেন, আসুন! আমরা জোট বাঁধি।” রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর তৃণমূল নেত্রীর এই ‘ঐক্যবার্তা’ আসলে নিজের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের এক মরিয়া চেষ্টা। এতদিন যে বাম ও কংগ্রেসকে তিনি রাজ্যে ‘সাইনবোর্ড’ বলে কটাক্ষ করতেন, আজ তাদেরই পাশে চেয়ে মমতার এই আর্জি যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী।

বাম-কংগ্রেসের কোর্টে বল তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ও বিধান ভবন চত্বরে। যেখানে কয়েক বছর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামেদের রাজনৈতিক সংঘাত ছিল চরম পর্যায়ে, সেখানে এই ‘জোট’ গড়ার আহ্বান কতখানি বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাম শিবিরের একাংশের মতে, তৃণমূলের দুর্দিন ঘনিয়ে আসতেই এই কৌশলী চাল দিচ্ছেন নেত্রী। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই প্রস্তাব নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। একলা চলে যে বিজেপিকে রোখা কঠিন হয়ে পড়ছে, তা সম্ভবত আজ স্বীকার করে নিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। “গণতন্ত্র বাঁচাতে” সবাইকে এক ছাতার তলায় আসার এই ডাক আসলে আগামীর কোনো বড় রাজনৈতিক মহড়া না কি স্রেফ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, তা সময়ই বলবে।

বর্তমানে তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— তবে কি ফের একবার ‘মহাজোট’ বা ‘ইন্ডি জোট’-এর সেই পুরনো ছবি বঙ্গ রাজনীতিতে দেখা যাবে? আপাতত উত্তরের অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।

Editor001
  • Editor001