“পাহাড় থেকে সাগর, একজোট হোন!” মমতার আকস্মিক ‘মহাজোট’ বার্তায় কাঁপছে বঙ্গ রাজনীতি; নেপথ্যে কোন পরিকল্পনা?

রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন প্রেক্ষাপট তৈরি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবিপক্ষের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে এক বৃহত্তর ‘যৌথ মঞ্চ’ গড়ার ডাক দিলেন তিনি। তাঁর এই আহ্বানে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো— বাম এবং এমনকি অতিবাম শক্তিগুলিকেও পাশে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
“আমার কোনো ইগো নেই” শনিবারের এই অনুষ্ঠানে অত্যন্ত নমনীয় কিন্তু কৌশলী মেজাজে ধরা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, “দেশ এবং রাজ্যের এই ক্রান্তিকালে আমাদের আর আলাদা থাকা সাজে না। আমার কোনো ব্যক্তিগত ইগো নেই। এমনকি যারা বামপন্থী বা অতিবামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের কাছেও আমার অনুরোধ— আসুন আমরা একটা সাধারণ মঞ্চ তৈরি করি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের নেত্রীর মুখে ‘ইগো নেই’ এবং ‘বামেদের আমন্ত্রণ’— এই দুটি কথা কার্যত এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শত্রু যখন এক, লক্ষ্য তখন জোট? দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে তৃণমূল বনাম বাম-কংগ্রেসের দ্বিমুখী লড়াই চলেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদল এবং বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তির সামনে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কৌশল বদলাচ্ছেন, তা তাঁর আজকের এই বার্তাতেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যে বিজেপির প্রভাব রুখতে এবং নিজের ঘর বাঁচাতে এবার তথাকথিত ‘রাজনৈতিক শত্রুদের’ সঙ্গেও হাত মেলাতে দ্বিধা করছেন না তিনি।
পাহাড় থেকে সাগর— ঐক্যের ডাক মমতা এদিন কেবল কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গ নয়, বরং পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলোকেও এই মঞ্চে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই করার চেয়ে এক ছাতার তলায় এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
তবে মমতার এই প্রস্তাবের পর আলিমুদ্দিন বা বিধান ভবনের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ডাক আসলে তৃণমূলের রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা না কি সত্যিই কোনো আদর্শগত মোর্চা গঠনের উদ্যোগ, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। তবুও, রবীন্দ্রজয়ন্তীর মঞ্চ থেকে মমতার এই ‘বাম-প্রেম’ যে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য।