১০ তারিখের সকালে বদলে গেল বাংলার ভাগ্য! শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী; ছবিতে দেখুন বঙ্গ রাজনীতির এক নতুন যুগের সূচনা

তপ্ত রোদের মাঝেই আজ বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। রবিবাসরীয় সকালে কলকাতার রাজভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং রাজনৈতিক টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের চাবিকাঠি এখন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের হাতে।
নতুন ভোরের অপেক্ষায় বাংলা রবিবার সকালেই রাজভবনের উত্তর ফটক দিয়ে একের পর এক সারিবদ্ধ গাড়ি ঢুকতে শুরু করে। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। রাজ্যপাল যখন শুভেন্দু অধিকারীকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ পাঠ করাচ্ছিলেন, তখন বাইরে সমর্থকদের গগনভেদী স্লোগান আর শঙ্খধ্বনি এক অন্যরকম উন্মাদনা তৈরি করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবিবারের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি স্রেফ ক্ষমতার বদল নয়, বরং বঙ্গের শাসনব্যবস্থায় এক বড়সড় মোড়।
গেরুয়া ব্রিগেডের শক্তির আস্ফালন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ শহর কলকাতায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বেরিয়ে আসেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পরনে ছিল চেনা সাদা পাঞ্জাবি এবং উত্তরীয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে তিনি যখন ভিক্টরি সাইন দেখাচ্ছেন, তখন চারিদিকে উড়ছে গেরুয়া আবির। সমর্থকদের ভিড় সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
এক নজরে নতুন মন্ত্রিসভা সূত্রের খবর, আজ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আরও কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ গ্রহণ পর্ব মিটতেই নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সোজা রওনা দেন নবান্নের উদ্দেশ্যে। রাইটার্স এবং নবান্নের অন্দরেও এখন নতুন আমেজ। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে এই পরিবর্তন রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে ভিড় কমছে না। মিষ্টি বিতরণ থেকে শুরু করে বাজি ফাটানো— সব মিলিয়ে রবিবারের এই বিশেষ দিনটি বঙ্গ রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক স্মারক হয়ে রইল।