. বিশ্ব কাঁপানো ‘মহা-বৈঠক’! হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে কি ঝটকা দিলেন জিনপিং? ট্রাম্পের চিন সফরে তোলপাড় আন্তর্জাতিক রাজনীতি!

বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী নিয়ে যখন ইরান ও আমেরিকার সংঘাত চরম সীমায়, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় কূটনৈতিক মোড় দেখল গোটা বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের পরম বন্ধু দেশ চিনে পা রাখলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁকে নিজের ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে চিনা প্রেসিডেন্টের দেওয়া এক রাজকীয় নৈশভোজে অংশ নেন ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিনিধিরা। নৈশভোজ শেষে আপ্লুত ট্রাম্প বলেন, “আজকের দিনটি সত্যিই দুর্দান্ত কাটল। বিশেষ করে আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে অপূর্ব আতিথেয়তা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের আপ্যায়ন জানিয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।” এই সফরে দুই রাষ্ট্রনেতাই চিন-আমেরিকার পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ককে উদযাপন করতে বিশেষ টোস্ট করেন। ট্রাম্প চিনা প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী মাদামে পেংকে আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজকীয় চিনা মেনু হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য বেজিংয়ের রাষ্ট্রীয় হেঁশেল থেকে পরিবেশন করা হয়েছিল বিশ্বমানের কিছু চিনা ও ফিউশন পদ। মেনুতে ছিল গলদা চিংড়ি দিয়ে তৈরি টমাটো স্যুপ, মুচমুচে বিফ রিবস, বেজিংয়ের সিগনেচার ‘ডাক রোস্ট’, মরশুমি সবজি এবং মাস্টার্ড সসে বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করা ‘স্লো-কুকড স্যালমন’। এখানেই শেষ নয়, শেষপাতে ছিল প্যান ফ্রায়েড পর্ক বান, ট্রাম্পেট সেল-শেপড প্যাস্ট্রি, তিরামিসু, তাজা ফল এবং আইসক্রিম।
হরমুজ প্রণালী ও ইরান সংকট: বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু আমেরিকা ও ইরান-ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি জটিল করে ইরান যেমন হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তেমনই মার্কিন নৌবাহিনীও এই জলপথ অবরোধ করে রেখেছে। এই দ্বন্দ্বে বেজিং এতদিন ইরানের পাশে দাঁড়ালেও, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনের সুরে কিছুটা বদল লক্ষ্য করা গেছে।
হোয়াইট হাউসের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রনেতাই একমত হয়েছেন যে বিশ্বজুড়ে শক্তির জোগান স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের শুল্ক বা অর্থ দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন খোদ শি জিনপিং। চিনের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমাতে তিনি আমেরিকার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কেনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে। হোয়াইট হাউস ও বেজিংয়ের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরেই জি-২০ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (APEC) শীর্ষ সম্মেলন মিলিয়ে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের মধ্যে অন্তত চারবার বৈঠক হতে পারে। এই মহাসাক্ষাৎকে ‘এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ শীর্ষ সম্মেলন’ বলে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে এবার এমন এক সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে, যা আগে কখনও দেখেনি বিশ্ব।