বিজয় কি তবে বাদ? ১১৮-র জাদুকরী ফিগারে আটকে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ, শেষ মুহূর্তে বিস্ফোরক মোড়!

বঙ্গে যখন নয়া সরকারের তোড়জোড়, ঠিক তখনই দক্ষিণের রাজনীতিতে ঘনীভূত হচ্ছে কালো মেঘ। ধরি ধরি করেও ধরা দিচ্ছে না জয়। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মনে করা হয়েছিল, সব জট কেটে গিয়েছে। ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়তে চলেছেন ‘টিভিকে’ প্রধান বিজয়। কিন্তু সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। আপাতত স্থগিত হয়ে গেল বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এবারের নির্বাচনের বড় চমক ছিল বিজয়ের দল। মাত্র দু’বছর আগে দল গড়ে প্রথমবার ময়দানে নেমেই ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয়লাভ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল তাঁর দল। কিন্তু সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১১৮ ছুঁতে প্রয়োজন আরও ১০টি আসন। আর এই ১০ আসনের অঙ্ক মেলাতেই কালঘাম ছুটছে বিজয়ের শিবিরের।

শুক্রবার দিনভর চরম নাটকীয়তার পর দাবি করা হয়েছিল যে, কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআইএম এবং ভিসিকে-র মতো দলগুলি বিজয়কে সমর্থনের সবুজ সংকেত দিয়েছে। এমনকী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML)-ও পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু রাজভবনের দরজায় পৌঁছাতেই বদলে যায় চিত্রনাট্য। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের কাছে বিজয় ১১৬ জন বিধায়কের সই জমা দিতে পারলেও, রাজ্যপাল তাঁর অবস্থানে অনড়। সপাটে জানিয়ে দিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ ১১৮ জনের সই ছাড়া শপথগ্রহণ সম্ভব নয়।

এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে আইইউএমএল-এর তরফ থেকে। শুক্রবার বিকেলে সমর্থনের কথা বললেও, শেষ মুহূর্তে তারা ডিএমকে-র সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, ভিসিকে দলের সমর্থনের চিঠি নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

এই টালমাটাল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি বিরোধী শিবির। টিটিভি দিনাকরণের দল এএমএমকে (AMMK) ইতিমধ্যেই রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে দাবি জানিয়েছে, বিজয় ব্যর্থ হলে এআইএডিএমকে-কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হোক। ফলে আপাতত রাজভবনের বারান্দায় বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ঝুলেই রইল। শেষ পর্যন্ত কি বিজয় এই ১০ আসনের গেরো কাটতে পারবেন, নাকি দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে ফের বড় কোনো পটপরিবর্তন হবে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।