“চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না”, মমতাকে নজিরবিহীন তোপ প্রিয়দর্শিনী হাকিমের! ভাঙনের মুখে জোড়াফুল?

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে শুরু করেছে। একদিকে কোচবিহারের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে মালদহের কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীদের মতো প্রবীণ নেতাদের তোপ, আর অন্যদিকে দলের রাশ আলগা হওয়ার আশঙ্কায় শাস্তির খাড়া— সব মিলিয়ে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরমহল এখন তপ্ত। কিন্তু সব জল্পনাকে ছাপিয়ে এবার যে বোমাটি ফাটালেন খোদ ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম, তা নজিরবিহীন।
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে সরাসরি মহাভারত ও রামায়ণের প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন প্রিয়দর্শিনী। তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে এক চরম কটাক্ষ। মমতাকে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ এবং অভিষেককে ‘দুর্যোধন’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি লিখেছেন, “চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।” অর্থাৎ, প্রিয়দর্শিনীর ইঙ্গিত— নেত্রী নিজের পরিবারের প্রতি অন্ধ আবেগের বশবর্তী হয়ে দলের বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রিয়দর্শিনীর এই আক্রমণ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে অভিষেকের প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল, যার খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে। দলের পুরোনো ও বিশ্বস্ত সেনাপতিদের বদলে তৃণমূল নেত্রী এখন নবীন প্রজন্মের ‘কর্পোরেট’ স্টাইল এবং আইপ্যাকের পরামর্শকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন— যা ভালো চোখে দেখছেন না দলের একাংশ।
পরিবারতন্ত্রের কারণে কীভাবে বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন হয়, তা বোঝাতে তিনি দুই মহাকাব্যের উদাহরণ টেনে এনেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ রাজনৈতিক মহলে নতুন নয়। বিশেষ করে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ এবং বয়সসীমা বিতর্ক নিয়ে ববি হাকিম যখন প্রকাশ্যেই অভিষেকের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন, তখন থেকেই ফাটল ছিল স্পষ্ট।
তবে বাবার পর এবার কন্যার এই ‘বিদ্রোহ’ জোড়াফুলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। এই মহাকাব্যিক লড়াই কি তবে দলের মধ্যে নতুন কোনও মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে? নাকি প্রিয়দর্শিনীর এই পোস্ট তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই জনসমক্ষে নগ্ন করে দিল, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সংবাদ প্রতিদিন হোক বা চায়ের দোকান— সর্বত্রই এখন একটাই প্রশ্ন, মহাকাব্যের পরিণতির মতোই কি তৃণমূলের অন্দরেও কোনও বড়সড় পতনের সুর বেজে উঠল?