ব্রিটিশ রাজনীতিতে সুনামি! মাত্র ৮ বছরের বাচ্চার হাতে কুপোকাত স্টারমার, লন্ডনের মসনদে বড় রদবদল?

ব্রিটিশ রাজনীতির সমীকরণ মুহূর্তের মধ্যে ওলটপালট হয়ে গেল। যে লেবার পার্টিকে অপরাজেয় মনে করা হচ্ছিল, স্থানীয় নির্বাচনে তাঁদের কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিল মাত্র আট বছর আগে জন্ম নেওয়া ‘রিফর্ম ইউকে’ পার্টি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের প্রতি জনগণের তীব্র অসন্তোষ এখন স্পষ্ট। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন দলটির ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী দলগুলো।
আসন সংখ্যায় বড় চমক: ফারাজের জয়জয়কার
ইংল্যান্ডের প্রায় ২০ শতাংশ কাউন্সিল আসনের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। আর তাতেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এখন পর্যন্ত রিফর্ম ইউকে একাই দখল করেছে ৩৮৪টি আসন। সেখানে শাসক দল লেবার পার্টি পেয়েছে মাত্র ২৫৩টি এবং কনজারভেটিভরা পেয়েছে ২৫২টি আসন। লেবার পার্টি তাদের আগের অর্ধেকেরও বেশি আসন হারিয়ে এখন দিশেহারা। ১০টি কাউন্সিল হাতে থাকলেও সাতটিতে ক্ষমতা হারিয়েছে স্টারমারের দল। এমনকি কনজারভেটিভদের হাত থেকে ‘নিউক্যাসল-আন্ডার-লাইম’ কাউন্সিলটিও ছিনিয়ে নিয়েছে ফারাজের দল।
দুর্গ ভাঙল লেবার পার্টির
সবথেকে বড় ধাক্কা এসেছে উত্তর ইংল্যান্ডে। হার্টলিপুলের মতো যে অঞ্চলগুলোকে লেবার পার্টির ‘নিচ্ছিদ্র দুর্গ’ মনে করা হতো, সেখানেও বড় জয় পেয়েছে রিফর্ম ইউকে। নাইজেল ফারাজ এই সাফল্যকে ব্রিটিশ রাজনীতির এক ‘ঐতিহাসিক মোড়’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, হারের দায় স্বীকার করলেও পদত্যাগ করতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
কেন এই ভরাডুবি?
২০২৪ সালের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দুই বছরেরও কম সময়ে স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। ঘন ঘন সরকারি নীতি পরিবর্তন, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি পরিষেবার বেহাল দশা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ব্রিটিশ নাগরিকদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে, যার প্রতিফলন দেখা গেল ব্যালট বাক্সে।
নজরে আরও ৫০০০ আসন
এই বছর ইংল্যান্ডের ১৩৬টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে ৫,০০০-এরও বেশি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেয়রের পদেও লড়াই চলছে। শনিবারের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবার লন্ডন বরো থেকে শুরু করে মেট্রোপলিটন কাউন্সিল—সব জায়গাতেই নজর কেড়েছে ভোটারদের উপস্থিতি।
স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের ফলাফল এখনও আসেনি, সেখানেও রিফর্ম ইউকে থাবা বসাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ রাজনীতিতে এই ‘তৃতীয় শক্তি’র উত্থান কি ভবিষ্যতে কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ আরও কমিয়ে দেবে? এখন এটাই দেখার বিষয়।