বাঁকুড়ায় ‘লাড্ডু-বিস্ফোরণ’! শপথের আগে কেন হাজার হাজার মিষ্টির প্যাকেট সাজাচ্ছে পদ্ম শিবির?

রাত পোহালেই বাংলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাক্ষী রেখে শপথ নিতে চলেছে রাজ্যের নতুন সরকার। আর সেই ঐতিহাসিক ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে কোনো খামতি রাখতে চাইছেন না বাঁকুড়ার বিজেপি কর্মীরা। কলকাতার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আঁচ এবার পৌঁছে যাচ্ছে বাঁকুড়ার অলিগলিতে— হাজার হাজার লাড্ডুর হাত ধরে।
বাঁকুড়ার ১২-০ ও মিষ্টিমুখের প্রস্তুতি
চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার ১২টি আসনেই ‘পদ্ম ঝড়ে’ খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে শাসক দল। জেলার এই অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই উচ্ছ্বসিত নিচুতলার কর্মীরা। বাঁকুড়া শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্রটা আজ একটু অন্যরকম। সেখানে এখন সাজ সাজ রব। শুক্রবার সকাল থেকেই কারিগর লাগিয়ে তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার লাড্ডু। স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করেই এই এলাহি আয়োজন করেছেন। লক্ষ্য একটাই— শনিবার যখন ব্রিগেডে শপথগ্রহণ চলবে, তখন যেন ওয়ার্ডের প্রতিটি বাসিন্দার মুখ মিষ্টি থাকে।
ঘরে ঘরে পৌঁছাবে উপহার
শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীর পূণ্যলগ্নে সকাল ১০টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। যদিও কাজের চাপে বা দূরত্বের কারণে বাঁকুড়ার সব কর্মী কলকাতায় পৌঁছাতে পারছেন না, তবে তাঁদের উদযাপন থেমে নেই। লাড্ডু তৈরির পর এখন চলছে প্যাকেটবন্দি করার কাজ। কর্মীদের দাবি, “নতুন সরকারের আমলে বাংলার মানুষের মুখে স্থায়ী হাসি ফিরবে। সেই সোনালী ভবিষ্যতের আশাতেই আমরা এলাকার আপামর মানুষকে মিষ্টি মুখ করাতে চাই।”
মোদীর সেই আত্মবিশ্বাসী বার্তাই সফল
প্রচারের শেষবেলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি ফের বাংলায় আসবেন বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। অবশেষে সেই কথাই সত্যি হতে চলেছে। কালকের এই মেগা ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটেতে প্রথমবার গঠিত হতে চলা ‘পদ্ম সরকার’-এর জন্য এই উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বাঁকুড়ার এই মিষ্টিমুখের আয়োজন যেন সেই বিপুল জনসমর্থনেরই এক মধুর প্রতিফলন। সব মিলিয়ে, শনিবারের সকালটা কেবল শপথের নয়, বরং এক উৎসবের মেজাজে বরণ করে নিতে প্রস্তুত আপামর বাঁকুড়াবাসী।