“ওকে শুট করে দিয়েছে!” ফোনের ওপারেই চন্দ্রনাথের শেষ চিৎকার? শিউরে ওঠা বর্ণনা দিলেন শঙ্কর ঘোষ

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ আট বছরের বিশ্বস্ত সঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় এবার সামনে এল এক হাড়হিম করা তথ্য। যে মুহূর্তে আততায়ীদের গুলিতে চন্দ্রনাথ লুটিয়ে পড়ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কর ঘোষ। TV9 বাংলাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন তিনি।
শঙ্কর ঘোষ জানান, আগামী ৮ ও ৯ তারিখের দলীয় কর্মসূচি নিয়ে চন্দ্রনাথের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করছিলেন তিনি। হস্টেলে ফেরার পথে উল্টোডাঙ্গা থেকে চন্দ্রনাথকে ব্রিফিং দিচ্ছিলেন। শঙ্কর বলেন, “ও আমাকে কিছু তথ্য দিচ্ছিল। হঠাৎই ফোনের ওপারে কয়েকজন মানুষের আবছা গলার আওয়াজ শুনতে পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম বোধহয় ক্রস কানেকশন হয়েছে বা ও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।”
রহস্য দানা বাঁধে তখনই, যখন হঠাৎ ফোনটি কেটে যায়। চিন্তিত শঙ্কর তৎক্ষণাৎ ফের ফোন করলেও চন্দ্রনাথ আর ফোন ধরেননি। মেসেজ করেও কোনো উত্তর না পাওয়ায় শঙ্কর ঘোষ যখন তৃতীয়বার ফোন করেন, তখন ফোনের ওপার থেকে অন্য এক ব্যক্তি আর্তনাদ করে জানান, “ওকে শুট করে দিয়েছে!”
বিধানসভার প্রতিটি অধিবেশনে বিধায়কদের কাজের সমন্বয় থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচার— সবটাই সামলাতেন চন্দ্রনাথ। দীর্ঘ আট বছরের এই সঙ্গীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বিজেপি শিবির। শঙ্কর ঘোষের আক্ষেপ, “আমরা সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, আর ঠিক এই সময়েই কথা বলতে বলতে চোখের সামনে সাথী হারিয়ে গেল। এই বয়সে এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।”
এদিকে, চন্দ্রনাথ রথের খুনের কিনারা করতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আজ মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অধরা অপরাধীদের খুঁজতে তল্লাশি জারি রয়েছে।