প্যারিসের বুকে ভারতের জয়জয়কার! ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ নিয়ে উত্তাল ফ্রান্স, মোদীর মাস্টারস্ট্রোক দেখল বিশ্ব

২০২৬ সালকে ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবার সরাসরি প্যারিসের মাটিতে আছড়ে পড়ল ভারতের উদ্ভাবনী শক্তি। শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে সম্প্রতি ফ্রান্সের রাজধানীতে আয়োজিত হয়ে গেল এক বর্ণাঢ্য রোডশো— ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’। লক্ষ্য একটাই, ভারতীয় মেধা আর উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া।
বিশ্বের দরবারে ভারতীয় স্টার্টআপের শক্তি
আগামী ১৪ থেকে ১৬ই জুন ফ্রান্সের নিস শহরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মূল ইভেন্ট ‘ইন্ডিয়া ইনোভেটস ২০২৬’। তার আগে আয়োজিত এই প্রাক-অনুষ্ঠানে ভারতীয় উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের দ্রুত বাড়বাড়ন্ত দেখে কার্যত চমকে গিয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত বিনিয়োগকারীরা। সেমিকন্ডাক্টর, অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং থেকে শুরু করে বায়োটেকনোলজি এবং মহাকাশ গবেষণার মতো ১৩টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে ভারতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয় এই সভায়।
জোট বাঁধল বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলি
প্যারিসের এই রোডশোতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে ফ্রান্সে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও যোগ দিয়েছিল ভিভাটেক, লা ফ্রেঞ্চ টেক এবং ইএসসিপি বিজনেস স্কুলের মতো বিশ্বসেরা কর্পোরেট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। শিক্ষা মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব গোবিন্দ জয়সওয়াল এক বিশেষ উপস্থাপনার মাধ্যমে দেখান, কীভাবে ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনার খনি হয়ে উঠেছে।
কেন এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ?
চলতি বছরের ১৭ই ফেব্রুয়ারি ফরাসি রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। ভারতের ১৩টি অগ্রণী প্রযুক্তি খাতকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
পণ্য প্রদর্শন: গবেষণাগারের উদ্ভাবনগুলিকে বাজারে নিয়ে আসা।
বিনিয়োগের সুযোগ: গ্লোবাল ইনভেস্টরদের সাথে ভারতীয় স্টার্টআপদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন।
সেতুবন্ধন: শিক্ষাঙ্গন ও শিল্পের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি করা।
নিস-এ তৈরি হচ্ছে ইতিহাস
আগামী মাসে ফ্রান্সের নিস শহরের প্যালে দে এক্সপোজিশন-এ যখন মূল অনুষ্ঠানটি বসবে, তখন সেখানে ভারতের উচ্চশিক্ষা এবং প্রযুক্তির এক নতুন রূপ দেখবে বিশ্ব। এই রোডশোটি একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শেষ হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং উদ্ভাবন ক্ষেত্রে লগ্নি করতে প্রবল উৎসাহ দেখিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল ভারতীয় স্টার্টআপদের বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি দেবে না, বরং ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ককেও এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।