ডিলিট করলেই সব মুছে যায় না, জানুন ডাটা মোছার আসল পদ্ধতি!

স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মেমোরি ভর্তি হয়ে গেলে বা ব্যক্তিগত কোনো ছবি-ভিডিও আড়াল করতে আমরা প্রথমেই ‘ডিলিট’ বাটনে চাপ দিই। অনেকেই মনে করেন, একবার ডিলিট মানেই বুঝি সেটি চিরতরে দুনিয়া থেকে মুছে গেল। কিন্তু প্রযুক্তির অন্দরমহল বলছে অন্য কথা। আপনার ডিলিট করা তথ্য আসলে ডিভাইসের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে, যা অনায়াসেই যে কেউ উদ্ধার করতে পারে। বিশেষ করে পুরনো ফোন বিক্রি করার আগে এই বিষয়টি না জানলে বড় বিপদে পড়তে পারেন আপনি।

ডিলিট করলেই কেন মোছে না? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা যখন কোনো ফাইল ডিলিট করি, তখন সিস্টেম ফাইলটিকে পুরোপুরি মুছে ফেলে না। বরং ওই ফাইলটির লোকেশন বা অ্যাক্সেস পথটি সরিয়ে দেয়। সহজ কথায়, ফাইলটি আপনার চোখের আড়ালে চলে গেলেও হার্ড ড্রাইভ বা মেমোরি চিপের ভেতরে সেটি থেকে যায়। যতক্ষণ না নতুন কোনো তথ্য বা ফাইল সেই জায়গাটি দখল করছে (যাকে টেকনিক্যাল ভাষায় ‘ওভাররাইট’ বলা হয়), ততক্ষণ বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ওই ডাটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

ক্লাউড স্টোরেজও কি অনিরাপদ? শুধু ফোন মেমোরি নয়, গুগল ড্রাইভ বা ড্রপবক্সের মতো ক্লাউড সার্ভিসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটে। কোনো ফাইল ডিলিট করলে তা সরাসরি ‘ট্র্যাশ’ বা ‘রিসাইকেল বিন’-এ গিয়ে জমা থাকে। সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত সেখানে ফাইলটি সুরক্ষিত থাকে। এছাড়া অনেক প্ল্যাটফর্মে ‘ভার্সন হিস্ট্রি’ থাকে, যার ফলে আপনি ডিলিট করার পরও পুরোনো সংস্করণ থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ফোন বিক্রির আগে যা করবেন: পুরনো ফোন কাউকে দেওয়া বা বিক্রি করার আগে শুধু সাধারণভাবে ফাইল ডিলিট করা যথেষ্ট নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

  • লগ আউট ও এনক্রিপশন: প্রথমে সব সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করুন। ডিভাইসটি এনক্রিপ্ট করে নিন যাতে তথ্য উদ্ধার করা কঠিন হয়।

  • একাধিকবার ফ্যাক্টরি রিসেট: একবার রিসেট করার পর ফোনে কিছু অপ্রয়োজনীয় বড় ফাইল (যেমন সাধারণ কোনো ভিডিও) আপলোড করে আবার রিসেট দিন। এতে পুরোনো ডাটা ওভাররাইট হয়ে যাবে।

  • ক্লাউড ক্লিনিং: ড্রাইভ থেকে ফাইল ডিলিট করার পর ‘ট্র্যাশ’ ফোল্ডারটি ম্যানুয়ালি খালি করুন। শেয়ার করা ফাইল হলে আগে তার পারমিশন বন্ধ করে দিন।

ডিজিটাল দুনিয়ায় সামান্য অবহেলাই হতে পারে বড় ঝুঁকির কারণ। তাই সংবেদনশীল তথ্য সব সময় এনক্রিপ্টেড ফোল্ডারে রাখুন এবং কাজ শেষে তা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার অভ্যাস তৈরি করুন। মনে রাখবেন, একটু সচেতনতাই পারে আপনার ব্যক্তিগত জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে।