অঙ্ক নিয়ে আর নেই ভয়! এবার খেলতে খেলতেই হবে গণিত জয়, ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য মোদী সরকারের দুর্দান্ত উপহার!

ভারতে প্রায় ২৫ কোটি স্কুলপড়ুয়া রয়েছে। ভাষা আলাদা হলেও তাদের অধিকাংশের মধ্যে একটি বিষয় খুব সাধারণ—তা হলো গণিতের আতঙ্ক। অনেক সময় পাঠ্যবইয়ের জটিল অঙ্ক দেখলেই পড়ুয়াদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়। এই ভয় দূর করতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনতে এবার হাত মেলাল দুটি প্রধান ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য গেমের ছলে গণিত শেখার এক অনন্য সুযোগ নিয়ে এসেছে এআইসিটিই (AICTE)-এর সহযোগী সংস্থা ‘অনুভাদিনী এআই’ (Anuvadini AI) এবং ‘ম্যাথজোরো’ (MathZoro)।
নয়াদিল্লিতে এআইসিটিই-এর সদর দফতরে এই ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের ঘোষণা করেন ডঃ বুদ্ধ চন্দ্রশেখর (সিইও, অনুভাদিনী এআই এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান সমন্বয়কারী কর্মকর্তা)।
কী এই ম্যাথজোরো? গেমের ছলে পড়াশোনা হবে কীভাবে?
রামদেবু রামকুমার প্রতিষ্ঠিত ‘ম্যাথজোরো’ হলো দেশের প্রথম গেম-ভিত্তিক গণিত শেখার প্ল্যাটফর্ম। এর মূল মন্ত্র হলো—”শিখুন, খেলুন, উপার্জন করুন এবং আনলক করুন”।
পড়ুয়ারা এখানে একটি ভিজ্যুয়াল যাত্রায় অংশ নেয়।
গেমের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন থিমযুক্ত জোন, যেমন—অ্যালজেবরা আইল্যান্ড, জ্যামিতি আইল্যান্ড এবং ত্রিকোণমিতি আইল্যান্ড।
প্রতিটি জোন এনসিইআরটি (NCERT), আইসিএসই (ICSE) এবং রাজ্য বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি।
সবথেকে বড় সুবিধা হলো, কম গতির ইন্টারনেট বা লো-ব্যান্ডউইথেও এই প্ল্যাটফর্মটি কাজ করবে, যা গ্রামীণ ভারতের পড়ুয়াদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
মাতৃভাষায় শেখার ম্যাজিক: অনুভাদিনী এআই-এর ভূমিকা
পড়াশোনার পথে ভাষা যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করবে অনুভাদিনী এআই। এটি একটি শক্তিশালী বহুভাষিক প্ল্যাটফর্ম যা ২২টি ভারতীয় এবং ৮৯টি বিদেশি ভাষা সমর্থন করে। ম্যাথজোরোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের ভাষায় গেমের প্রতিটি স্ক্রিন, কুইজ এবং শেখার উপাদান দেখতে পাবে। পেজ রিলোড ছাড়াই বা আলাদা কোনো অ্যাপ ছাড়াই রিয়েল-টাইম অনুবাদের সুবিধা মিলবে এখানে।
JEE-NEET প্রস্তুতির পথ আরও সহজ
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ম্যাথজোরোর মাধ্যমে গণিতের ভিত শক্ত করার পর পড়ুয়াদের পরবর্তী গন্তব্য হবে ‘অনুভাদিনী পরীক্ষা’।
এই প্ল্যাটফর্মটি JEE, NEET, UPSC-এর মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করে।
ইংরেজি মাধ্যমের দাপট কমিয়ে ছাত্রছাত্রীরা তাদের চিরচেনা মাতৃভাষাতেই এই সব পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে।
এখানে নিজেদের প্রয়োজন মতো প্রশ্নের কঠিন স্তর বা ডিফিকাল্টি লেভেলও কাস্টমাইজ করা যাবে।
শিক্ষা এবং প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে ভারতের ২৫ কোটি স্কুলপড়ুয়ার ভবিষ্যৎ যে আরও উজ্জ্বল হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অঙ্ক এখন আর ভয়ের কারণ নয়, বরং গেমের স্কোরের মতোই আনন্দদায়ক হতে চলেছে।